রবিবার, ৯ মে, ২০২১

মা দিবসে উপলব্ধি

মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল
আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধোঁয়া এই কাজগুলো আমাদের বেশিরভাগ পুরুষদের চোখে বড় না হয়ে উঠার কারণ- প্রায়শই আমরা কাজগুলো করিনা, করে থাকে নারীরা।আর প্রায় পুরুষের মুখে শোনা যায় আরে এগুলো এমন কি কাজ।বিশ্বাস করেন আপনি একজন পুরুষ একা জীবনযাপন করে না থাকলে কখনোই অনুধাবন করতে পারবেননা এই কাজগুলো কতটা আরামদায়ক নয়। এই আমার কথায় ধরুন মজার মজার রান্না করে খাওয়ার পর ইচ্ছে করেনা আর থালা বাসন মাঝার। যেদিন অলসতা করে ধোঁয়া মোচা হয়না তারপরের দিন টের পাই রান্নাঘরের কি জঘন্য অবস্থা।আর খাওয়াদাওয়ার পরপরই এই ধোঁয়ার কাজটা হরহামেশাই করে থাকেন আমাদের মায়েরা, বোনেরা বউ য়েরা।বিল গেটস তার একটা বক্তব্যে বলেছিল রাতের খাবারের পর সবচেয়ে কঠিন কাজটা তিনি করেন এই থালাবাসন ধোঁয়ার কাজ, যারা তার কথায় ট্রোল করছেন বিশ্বাস করেন গোলাম হোসেন কথা একেবারে সত্যি বিশ্বাস না হলে একমাস করে দেখুন চ্যালেঞ্জ করলাম আপনি বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন কারণ ধোঁয়া মোচা করতে আমার কোমর ধরে যায়।
আগেরদিন ভেবে রেখেছিলাম সকাল ১০ টার গাড়ি ধরবো কিন্তু মিস করলাম কেন জানেন যাওয়ার আগে পুরো ঘরটা পরিষ্কার করা আধোঁয়া জিনিসপত্র ধুয়ে রাখা এইসব করতে করতে। আপনি এসব বুঝবেন না যদি না আপনি কাজগুলো না করেন। অথচ আমরা নারীদের ট্রোল করি ২ মিনিটের কথা বলে তারা ২ ঘন্টা সাজে। ভাই তারা শুধু সাজে না আপনার সংসার বলা মানুষগুলোর সংসারটাও সাজিয়ে গুছিয়ে তারপর বের হয় বেড়াতে যাওয়ার জন্যে। বিশ্বাস করেন আপনি যেদিন বলবেন চলো দুজনে মিলে ঘরের কাজগুলো করে তারপর বেড়িয়ে পড়ি দেখবেন সেইদিন থেকে তাদের ২ মিনিট মানে ২ ঘন্টা মনে হবেনা আপনার। বিশ্বাস হচ্ছেনা চ্যালেঞ্জ করলাম আগামী একমাস করে দেখুন আপনি বিশ্বাস করতে বাধ্য হবেন।
চাকরির কাটুনি এরপরে ঘরের সবকাজ করার পর আমার আর ইচ্ছে করেনা ক্যারিয়ার ভাবনা ভাবতে, ইচ্ছে করেনা একটু নতুন কোর্স করতে, ইচ্ছে করে ঘুমাতে কিন্তু এই ইচ্ছেকে জলাঞ্জলি দিয়েও নতুন কিছু শিখতে ঘুমটাকে ত্যাগ করি।বিশ্বাস করেন একজন নারীও অফিস থেকে আসার পর বাসার সব কাজ করে সে ও ক্লান্ত তার আর ইচ্ছে করেনা আমার মতো ক্যারিয়ার ভাবনা ভাবতে, নতুন কিছু শিখতে তারপরও নারীরা সব কষ্টকে পরাভূত করে নতুন কিছু শিখছে, ক্যারিয়ারে ভালো করছে।আমার পরিচিত অনেক নারীকে চিনি যারা ঘর সংসার, লাইফপার্টনার,সন্তান সন্ততি সব কিছুকে সামাল দিয়েও তারা কি দারুণ দক্ষতায় শীর্ষে আরোহন করছে। তারা আমার কাছে নমস্য, দেবী তুল্য।মাঝেমধ্যে ভাবি তাদের মাঝে কি এক্সটা পাওয়ার আছে?তারপরে ও আমরা ট্রোল করি মেয়েতো উপর মহলকে তেল মেরে প্রমোশনটা /চাকরী ভাগিয়ে নিয়েছে। বিশ্বাস করেন তেল মশলা সব দিয়ে যদি কাঙ্ক্ষিত জায়গাটা পেতাম কসম রাঁধুনির সব তেল মশলা বাজারে পেতেন না।আর যদি বিশ্বাস না হয় যোগ্যতা ছাড়া চেষ্টা করেই দেখুন।
আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীর সবচেয়ে সম্মানের জায়গাটি কেবল মা।কেবল নিজের মা।একবার কি ভেবেছেন আপনার স্ত্রী আপনার সন্তানের মা,আপনার বোন আপনার ভাগনে ভাগ্নির মা, আপনার কলিগ তিনিও কারো না কারো মা,আবার তারা সকলেই নারী।তাহলে মায়ের সম্মানটা সকল নারীর প্রাপ্য।আমার কাছে মা মানে একটা অনন্য স্থান, যে নারী সন্তান জন্মদানের সময় মারা গিয়েছেন সেই সন্তানের লালনপালন যদি পুরুষ করেন তাহলেই সে সন্তানের মা ঐ পুরুষ। মাকে কেবল আমরা নারীকেন্দ্রিক করে রেখেছি আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়।যদি আপনি আমার সাথে একমত হন তাহলে বিষয়টি দাঁড়ায় নারী মানে মা,মা মানে যিনি শিশুর বর্তমান ভবিষ্যৎ অর্থাৎ পুরুষ যে সন্তানের মায়ের ভূমিকায়। তাহলে সূত্র দাঁড়ায় নারী= মা,পুরুষ =মা অর্থাৎ নারী=পুরুষ =মা। আজ মা দিবসে সকল নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন মানেই নিজেকে সম্মানিত করা।মানব জাতিকে সম্মানিত করা। চলুন সমতার সমাজ গড়তে আমাদের মানসিকতাকে উন্নয়ন করি এবং নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিয়ে নিজে সম্মানিত হই।এই প্রকাশনাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন এবং আপনার অনুপ্রেরণায় হবে আমার পরবর্তী ভাবনার খোরাক। শুভকামনায় সুজন নীল Aa

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টে শিশুর দশ প্রকারের খেলার গুরুত্ব

আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্টে শিশুর দশ রকমের খেলা সম্পকে আজকে আপনাদের জানাবো। আন অকুফাইড প্লে এধরনের খেলা শিশুকে লক্ষ্যবস্তু ব্যতীত শারীরিক নড়াচড়া করতে সহায়তা করে এতে করে শিশুর ভবিষ্যতে সব অঙ্গ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সহযোগিতা করবে।এতে করে শিশু প্রানবন্ত ও কর্মতৎপর হয়ে উঠবে। সলিটারি/ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্লে এই ধরনের খেলা শিশুকে একাকি থাকতে সহায়তা করে এবং এতে করে শিশু পরনির্ভরশীল না হয়ে স্বনির্ভর হয়ে উঠে।শিশু শেখে নিজেকে নিজে কি করে আনন্দিত করবে এবং নিজের প্রতি যত্নশীলতা। যেসব পরিবারে মা বাবা উভয়েই চাকুরীজীবি সেসব পরিবারের শিশুদের বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে এ ধরনের খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনলুকার প্লেঃ যখন একটি বাচ্চা খেলা করে এবং আরেকটি বাচ্চা খেলাটি দেখে সেই দেখাটাই হলো অনলুকার প্লে।অনলুকার প্লেতে শিশু সরাসরি খেলাতে অংশগ্রহণ করেনা কিন্তু গভীরভাবে অন্য শিশুকে পর্যবেক্ষণ করে। এর মাধ্যমে শিশুর ইমিটেশন স্কিল ও মনোযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। পেরালাল প্লেঃ যখন দুইটি শিশু পাশাপাশি খেলা করে এবং একে অন্যকে মিমিক বা অনুকরণ করতে থাকে সাথে সাথে একে অন্যের আচরণগুলো আয়ত্ব করে থাকে তাই পেরালাল প্লে তে শিশুর খেলার সঙী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে আচরণগুলো শিশুর আয়ত্বে আনতে চান তা এই প্লে তে একজন শিশুর মতো রোল প্লে করে শিশুর আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারেন তবে এই ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনার ভেতরের শিশুটিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। এসোসিয়েটিভ প্লেঃ এক্ষেত্রে আলাদাভাবে শিশু খেললে ও তাদের খেলার বিষয়টি একিই থাকে এবং একে অন্যের সহযোগী হয়ে ওঠে।যেমন ব্লক দিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি এর মাধ্যমে শিশুরা শেখে সামাজিকীকরণ, জঠিল সমস্যার সমাধান, অন্যের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব, ভাষাগত দক্ষতা। আপনি যদি আপনার শিশুর মধ্যে এই স্কিলগুলো আনতে চান তাহলে তাকে এসোসিয়েটিভ প্লে তে উৎসাহিত করে তুলুন। কোওপারেটিভ প্লেঃশিশু যখন একসাথে একিই উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে খেলে সেটাই কোওপারেটিভ প্লে।এই ধরনের খেলা শিশুর সামাজিক দক্ষতা ও সহযোগিতার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে শেখে।ভবিষ্যতে শিশুকে ম্যাচিউর করতে এধরণের খেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।যেমনঃদাবা খেলা, ছক্কারবোর্ড। ড্রামাটিক / ফ্যান্টাস্টিক প্লেঃ শিশু নানা ধরনের সাজসজ্জা, পোশাক ও অঙ্গভঙ্গি মাধ্যমে এই ধরনের খেলা করে থাকে।এই ধরনের খেলার মাধ্যমে শিশু সামাজিক হয়ে ওঠে এবং সহযোগী মনোভাব অর্জন করতে শেখে।রোল প্লেয়িং এর মাধ্যমে শিশু বৃহৎ পরিসরে সামাজিকীকরণ শেখে।এই ধরনের খেলার মধ্য দিয়ে শিশুর বৃহত্তর পরিসরে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন সম্ভব। এক্ষেত্রে আমি রাশিয়ার বেলা নামের চার বছরের শিশুর উদাহরণ দিতে পারি যে মাত্র চার বছর বয়সেই সাতটি দেশের আন্তর্জাতিক ভাষায় ভাব বিনিময় করতে সক্ষম। কম্পিটেটিভ প্লেঃ এই ধরনের খেলার মাধ্যমে শিশু নিয়মনীতি শেখে যা তাকে অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখে এবং অন্যের প্রতি সহমর্মি হতে শেখায়।এবং একটি দলের অংশ হিসেবে তার কেমন আচরণ করা উচিত তা সে এই ধরনের খেলার মাধ্যমেই শিখে থাকে।যেমনঃ ফুটবল/ক্রিকেট এই ধরনের খেলাগুলো থেকে শিশু এই বিষয়সমূহ শিখতে পারে। ফিজিক্যাল প্লেঃ শিশুরা শারিরীক কসরতের মাধ্যমে যে খেলা করে থাকে তাই ফিজিক্যাল প্লে।এই ধরনের খেলার মাধ্যমে শিশুর পেশি উন্নত হয় এবং শিশুর হাড় সুগঠিত হয় ও রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকতা বজায় থাকে,দেহের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।শিশুর চলনের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখে।যেমনঃ বড় চলনের/ মুভমেন্টের ক্ষেত্রে( gross Motor) ও ছোট চলনের/ মুভমেন্টের ক্ষেত্রে(fine Motor) এর উন্নয়ন হয়ে থাকে। আমার লেখাটি আপনার উপকারে আসলেই আমার লেখা স্বার্থক বলে মনে করবো, যদি আপনি উপকৃত হোন তবে কমেন্ট করে জানান এবং অন্যকে শেয়ার করে জানতে সহযোগিতা করুন কেননা অন্যকে সহযোগিতা করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ। সুজন নীল সাইকোলজিস্ট একশন কন্ট্রা লা ফা (ফ্রান্স)

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

স্বপ্নকে যেভাবে বাস্তবে পরিবর্তন করবেন

স্বপ্নকে বাস্তবে পরিবর্তন করবেন কিভাবে? রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন আপনার সাব কন্সাস তথা অবচেতন মনকে । একটা লাল কালির কলমে লিখে ফেলুন আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন কেন সেটা পূরণ করতে পারছেন না কি কি কারণে।একটা নতুন ডায়েরিতে আপনার স্বপ্ন ও সেটা পূরণ করতে না পারার পিছনের কারণগুলো লিখে ফেলুন।তারপর ঘুমিয়ে পড়ুন। এবার খেলাটা মস্তিষ্কের সে এই সমস্যাগুলোর সমাধান তৈরিতে কাজ করবে সারারাত।দেখবেন সকালে উঠে আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অনেক রাস্তা আপনি খুঁজে পেয়েছেন। রাস্তা খুঁজে পাওয়ার পর ভো দৌড় দেওয়া চলবেনা, এবার একটা একটা করে সিড়ি তৈরি করতে হবে আগেই পরিকল্পনা করুন কতটা সিড়ি উঠলে আপনি চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন সেই অনুযায়ী শুধুমাত্র একটাই সিড়ি বা স্টেপ পার করুন সেই লক্ষ্য নিয়ে।একটা সিড়ি পার করলে নিজেকে নিজে রিওয়ার্ড (নিজের পছন্দের যেকোন গিফট)দিন।এবং বলুন এইতো স্বপ্নের কাছাকাছি। তারপরের ফোকাস পরের সিড়িতে।এইভাবে একটি একটি করে সিড়ি তৈরি করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে আপনাকে অনেক কিছুই ছাড়তে হতে পারে সেজন্য কখনোই নিজের সিদ্ধান্তকে ভুল হয়েছে এটা মনে করবেননা, নিজের সিদান্তকে অন্যের দ্বারা প্ররোচিত করবেননা এতে আপনি ফ্রাস্ট্রেটেড হবেন।আমার এক বন্ধু ছাত্রজীবনে ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার দুইটাতেই সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন ডাক্তার হবে।দশ বছর পর তার ই সমকক্ষ কোন বন্ধু ইঞ্জিনিয়ারকে যখন আমেরিকার বিলাশ বহুল লাইফ লীড করতে দেখে তার মনে হয় সবসময়ই সে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নচেত তার জীবন ও এমন হতে পারতো।এই ফ্রাস্ট্রেশনে সে সবসময় ভুগছে তাই নিজের সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করুন।নচেত আপনি আপনার গোলে পৌঁছাতে পারবেননা। হাজারো মানুষ হাজারো মন তাদের হাজারো মতামত। এতো মানুষের মতামত আপনি শুনবেন কিন্তু সর্বোপরি নিজের মতামত নিন, আপনি কি চান? এই উত্তর আপনি খুঁজে পেলে আপনি আরো একটি ধাপ এগিয়ে গেলেন স্বপ্নের বাস্তবায়নের দিকে। আমাদের সবসময়ই তিনটি হাত কাজ করে।নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন তিন নাম্বার হাত কোনটি।হ্যাঁ সেটা আমাদের অজুহাত। যখন আমরা কোন কাজে ব্যর্থ হই তখন আমাদের অজুহাতের অন্ত থাকেনা।তাই বাম,ডান হাত ঠিক রেখে অজুহাতটাকে বিচ্ছেদ করতে হবে।বিজয়ীরা কখনো অজুহাত দেয়না তারা সবসময় খুঁজে বের করে কি কি বিষয় তাকে আটকে রাখছে স্বপ্ন পূরণ করতে না পারার পিছনে।যেমনঃ সময়,এনার্জি,টাকা, ইচ্ছা,জ্ঞান, পর্যাপ্ত সহযোগিতা। এরপর তারা এসবের সমাধানে নেমে পড়ে।আপনিও তাই করুন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যে ওয়ান এন অনলি রুল হলো উইনার্স নেভার কুইট,কুইটার্স নেভার উইন।বিজয়ীরা কখনোই শেষ না দেখে ছাড়েনা।আর যারা শেষ অব্দি যায়না, ছেড়ে দেয় তারাই জীবনযুদ্ধে পরাজিত। তাই কখনোই আপনার স্বপ্নকে ছেড়ে যাবেন না।মুষ্টিযোদ্ধা মো আলী ক্লে বলেছেন আপনি আপনার একশো এক নাম্বার ঘুষিটা আপনার প্রতিপক্ষকে করুন দেখবেন বিজয় আপনার।তাই যখন ভাবছেন সকল শক্তি শেষ তার মধ্যেও শরীরের সর্বশক্তি নিয়ে শেষ চেষ্টা করুন স্বপ্ন আপনার হাতের মুঠোয় আসতে বাধ্য।আমি আমার জীবনের ছোট ছোট, মাঝারি অনেক স্বপ্নকে এইভাবেই ছুঁয়েছি। বড় স্বপ্নের জন্যে সময়ের প্র‍য়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক। তাই সময়কেও গুরুত্ব দিন।একদিনে জিমে গিয়ে যেমন আরনল্ড সোয়ার্স নেগার হওয়া যাবেনা তেমনি কয়েকদিন পরিশ্রম করেও সাফল্য আসবেনা এরজন্যে একাগ্রভাবে লেগে থাকতে হবে।তাহলেই আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। এই বিষয়গুলো মেনে আপনি সফল হলে অবশ্যই আমাকে একটি বার্তা প্রেরণ করবেন আর লেখাটি যদি আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সহায়ক হয় তবে লাইক কমেন্ট করে পাশে থাকবেন এই প্রত্যাশা। শুভ কামনায় সুজন নীল সাইকোলজিস্ট একশন কন্ট্রা লা ফা (ফ্রান্স)

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০

দূর্যোগে নারী

এখন যে গল্পটা বলবো এটা আমাদের শহুরে উচ্চ শিক্ষিত সমাজের,যেখানে তারা দাবি করে তারা সব বিষয়ে সচেতন। আসলেই কি তাই? লাবণ্য এই বাঙালি সমাজের উচ্চশিক্ষিত শহুরে পরিবারের এক মেয়ের নাম। যদিও নামটি ছদ্মনাম তবুও এই সমাজেরই একটি চরিত্র। গতকাল রাত হতেই লাবণ্যের পিরিয়ড শুরু হয়েছে আর এরমধ্যে সারা পৃথিবীজুড়েই করোনা আতংক।সে এক্টু বেশিই ভয় পেয়ে গেছে এবার কারণ গত ১০ দিন আগেই তার ঋতুচক্র শেষ হয়েছিল। হরমোলান ইমব্যালান্সের কারণে তাকে বেশ কয়েকবার এইরকম তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেসময় দেশের পরিস্থিতি ভালো ছিল ডাক্তারকে দেখাতে পেরেছিল কিন্তু এই দূর্যোগের সময়ে কি করবে সে ভেবে পাইনা। এরমধ্যে মুড সুইং তো আছেই।এরমাঝে ঘরে সবাই বন্ধী।বাবা, বড় ভাই,এক চাচা ও বিপদে পড়ে এসেছে তাদের বাসায়।এতোসব লোকের প্রতিদিনের খাবার,সকাল দুপুর সন্ধ্যায় নাস্তা বানাতে বানাতে লাবণ্য ও তার মা গত দু সপ্তাহে প্রায় হাপিয়ে উঠেছে । এরমধ্যে লাবণ্য আবার পিরিয়ডের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।লাবণ্যের বড় ভাই এক সমাজ কল্যাণ সংস্থার বড় পদের কর্মকর্তা বাবা ও রিটায়ার্ড অফিসার,চাচা কাজে যদিও কিছু করেনা কিন্তু নিজেকে সমাজ উন্নয়ন কর্মী বলেই দাবি করে।এছাড়া নেট দুনিয়ায় তার ব্যাপক নামডাক মানবতাবাদী হিসেবে।আজ সকাল থেকে লাবণ্যের মুড সুইং, এর মধ্যেই তার বড় ভাই বলছে লাবণ্য সারাদিন করে কি নিজের রুমে কোন কাজকর্ম করেনা, কিছুই করেনা। আমাদের নাস্তাটা অন্তত বানাতে পারে। ভাই আর চাচা এদের সারাদিনের কাজ খবর দেখা করোনায় কোন দেশে কতজন মরলো সেই খবর রাখা আর বেলা বারটার পর ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করা কয়েক পদের বাহারি নাস্তা দিয়ে তারপর খবর দেখা এরপর আবার দুপুরের কয়েক পদের খাবার খাওয়া এরপরে আবার খবর দেখা তারপর একটা হাল্কা ঘুম দিয়ে উঠে চা আর নাস্তা বিছানার পাশে তো চাই।এরপর দেশবিদেশের করোনার গল্প তো চলছেই রাত ১১ টা অব্ধি ড্রয়িং রুমে, তারপর আবার রাতের বাহারি দুই চার পদের রান্না দিয়ে ভূরিভোজন। এভাবেই কাটছে গত দুই সপ্তাহ। অথচ তাদের চোখেই পড়েনা এই কঠিন পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা দুইজন নারীর উপর কি পরিমাণ কাজের চাপ,মানসিক চাপ যাচ্ছে।এতোবড় মস্তিষ্কে তাদের এই চিন্তা কোনদিন আসেনি,মনে হয় আসবেনা কোনদিন ও।লাবণ্য একদিন শুয়ে আছে শুনতে পেল তার চাচা বলছে বাসায় মেয়েদের কি আর কাজ রান্না করা এই আর কি,এ আর এমন কি কাজ।লাবণ্য বিছানা ছেড়ে উঠে এসে বললো তোমাদের যদি তাই মনে হয় একটা চ্যালেঞ্জ করি শুধুমাত্র আগামীকালের কাজগুলো তোমরা করবে আর আমরা দুজন রেস্ট করবো।আগপিছ চিন্তা না করে চাচা বললো ঠিক আছে এটা আর এমন কি কাজ।পরের দিন সকাল বেলা লাবণ্য এসে তাদের ডেকে দিল, তাদের তো মেজাজ চরমে এতো ভোরে কেউ ঘুম থেকে উঠে তখন কিন্তু সকাল নয়টা। লাবণ্য বললো চাচা, ভাইয়া, বাবা চ্যালেঞ্জের কথা ভুলে যেওনা। তিনজন মিলে চা আর নুডলস রান্না করতেই হিমসিম খেয়ে গেল।১১ টায় শেষ হলো নাস্তা পর্ব।এবার দুপুরের খাবার তিন পদের রান্না, ভাত ও রান্না করতে হবে।রান্না তো হলো কিন্তু তিনটে বেজে গেল তিন পুরুষের সব করতে করতেই।ভাই তো রেগে আগুন চাচার উপর কেন এই চ্যালেঞ্জ নিতে গেল।লাবণ্য তাদের স্মরণ করিয়ে দিল বিকেলের নাস্তা ও চা বানাতে হবে।খেয়েই তারা লেগে পড়লো নাস্তা বানাতে বিকেল পাঁচটায় নাস্তা হলো এরপর তারা ক্লান্ত এবং তারা স্বীকার করলো সত্যিই সংসারের অনেক কাজ যা একা নারীর উপর অনেক চাপ। তারা সিদ্ধান্ত নিল একসাথে তারা রান্না করবে শিফট করে তাহলে আর কারো উপর চাপ পড়বেনা।সমযোতায় সবাই হাসতে লাগল।এরমধ্যে লাবণ্যের ঘুমটা ভেংগে গেল।লাবণ্য এতোক্ষণ এই সমাজে সমতার স্বপ্ন দেখছিল। এই কথা গুলো এই চ্যালেঞ্জটা সত্যিই যদি সে তার ঘরে থাকা অকালকুষ্মাণ্ড গুলোকে ছুঁড়ে দিতে পারতো,তাহলে কতো না ভালো হতো।কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতার ভয় তাকে সেই কথাগুলো, চ্যালেঞ্জ করার কথা বলার সাহস ও দিচ্ছেনা।এই চিত্র গল্প নয় এই চিত্র আমাদের শিক্ষিত সমাজের,আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজের।আমরা কি পারিনা এই চিত্রটা লাবণ্যের স্বপ্নে দেখা সমতার গল্প করতে! আমরা কি পারিনা এই কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে ঘরের কাজগুলো ভাগাভাগি করে নারীর উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমিয়ে তাকে মানসিক ও শারিরীক শান্তি দিতে।আমাদের এই পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষদের চোখ কবে খুলবে আমার জানা নেই,গত কয়েক সপ্তাহ ব্র‍্যাকের একটা রিসার্চ এর সার্ভে করতে গিয়ে আমার জেন্ডার লেন্সে উঠে এসেছে সমাজের এই চিত্র।এই চিত্র সারা শহরজুড়ে, প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারে নারী শারিরীকভাবে লাঞ্চিত না হলে ও মানসিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত। নিম্নমধ্যবিত্ত কিম্বা নিম্নবিত্ত সমাজে এই চিত্র যে কত করুণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।রীতিমতো প্রতিদিন চলছে শারিরীক নির্যাতন, এরসাথে মেরিটাল রেপ তো প্রতিদিনের কাহিনী।বাকিসব ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌতুকের জন্যে হত্যা ও হয়রানির গল্প আমি নাইবা বললাম,সেই চিত্র আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখি।এই সমাজ কি বদলাবে? মানসিকতার পরিবর্তন কি আসবে আমাদের আচরণে? যদি না আসে এই সমাজে লাবণ্যরা আর স্বপ্ন দেখবেনা,উচ্চশিক্ষার জন্যে তারা যে স্বপ্ন দেখে সেটাও হবে দুঃস্বপ্ন। পরিবর্তন আনতে হলে আজ এখনই সময় পরিবর্তনের।আমরা পুরুষেরা চাইলেই একটা সুন্দর সমাজ এই বাংলাদেশকে উপহার দিতে পারি।সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি করবেন। পরিশেষে বলতে চাই,,, এমন একটি পৃথিবী আমাদের ও কাম্যযেখানে থাকবে সকলের সমতা ও সাম্য।।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০

ও মানুষ আর কত



ও মানুষ আর কত


সুজন নীল


সব কিছু ঠিক রবে
শুধু সত্যি মিথ্যে
হয়ে যাব তুমি আমি ।
বুক ভরে শ্বাস নেওয়াটা
মানুষ কি বুঝেছে
কতটা দামী?
ও মানুষ নাকি এখনো আলসেমী?
আর কত আর কত!
তোমার আঘাতে আঘাতে
পৃথিবীর যত ক্ষত
ফিরিয়ে দিবে সে আঘাত
মনে রেখ নিজের মত।
এখনো কি অবুঝ?এখনো কি কাঁচা?
বুঝলেনা বুঝি এক হয়ে গেছে মরা আর বাঁচা।
ও মানুষ আর কত আর কত
বুঝবে কি সেদিন হবে যেদিন পূর্ণ কোটির শত?
ও মানুষ আর কত আর কত???


করোনাতে করনীয়

করোনাতে করনীয়
সুজন নীল

আতংক নয় ,চাই জনসচেতনতা
মানবো নিয়ম বাংলার সর্বজনতা।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, জানাতে হবে
সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে
বাঁচতে হলে থাকবো ঘরে
লাগলে কিছু আনবো প্রশাসনকে ফোন করে
করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে
মানবতার তরে যাবনা দূরে সরে
আইসোলেট করবো তারে
ফোনে শক্তি সাহস দেব
সমবেদনা ভরে।।
লক্ষণ যদি দেখতে পাই নিজের অথবা প্রিয়জনের
সেবা, মানসিক শক্তি হবো তার প্রতিক্ষণের।
চৌদ্দদিনের কোয়ারেন্টাইনে তারে রাখবো ঘরে
স্বযতনে ঘরের দরজা বন্ধ করে।
বাঁচতে হলে আতংক নয় চাই মানসিক শক্তি
মানুষ  মানুষের জন্যে মানুষকে ভক্তি।। 
শিশু থেকে বৃদ্ধ ভয় পাচ্ছে করোনা
তাদের আমরা নেভেটিভ খবর শোনাবোনা।
শোন তরুন ভাই ও বোন
ঘরে থাকি তৈরি করি ক্রিয়েটিভ জোন।
মানি সকল আইন ও গাইডলাইন
হয়তো তুমিও হবে আইনস্টাইন।।
দোহাই তোমায় যেওনা আজি ঘরের বাহিরে
বলা কি যায় তোমার সাথেই করোনা আসবে ফিরে।
যদি ভালোবাসো নিজের পরিবার
এখন ঘরের কাজে কর সময় পার।।
বাঁচতে হলে করতে হবে ব্যায়াম ও মেডিটেশান
এতেই তো বেড়ে যাবে অটো হিলিং সিস্টেম ।
নিয়মিত অনুশীলনে শেষ হবে শরীরের লুকানো বিষ
আমরা ও হটিয়ে দেব মহামারী কোভিড -১৯।
চলো সকল ভেদাভেদ ভুলে ভয় করি ক্ষয়
এসো মানূষ, বলি হোক মানবতার জয়।।
১৬/০৪/২০২০
জনস্বার্থে ছড়াটি শেয়ার করতে পারেন অনুমতি দেওয়া হলো।

রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯

কবিতার শ্রোতা


কবিতার শ্রোতা

সুজন নীল

রচনার কাল-১৮/১০/১৭

মঞ্চে আছেন বিখ্যাত গুণী শিল্পী
আর সামনে শত শত শ্রোতা,
শিল্পীর মুখে প্রিয় কবিদের কবিতা
যেন পদ্মা খরস্রোতা।

হঠাৎ এক দর্শক বললে  
তাতে কি?পাঁচশ, একশ টাকায় তো
টিকেট কেটে এসেছি অন্দরে,
হোকনা একটু তামুক,একটু চিপস
বিস্কুট এই বন্দরে।

কবিতার মায়াজালে
কেউ হাসে,কেউ কাঁদে
কেউবা হারিয়ে যায়
প্রেমিকার মাথা প্রেমিকের কাঁধে।

কেউবা ব্যস্ত থামাতে
বাচ্চার হঠাত প্রলাপে
দুই বান্ধবী ফিসফিসিয়ে
ব্যস্ত খেজুরে আলাপে।

আমি জানিনা কজন সত্যি
কবিতা শুনতে আসে
আর কজন সত্যি
কবিতাকে ভালোবাসে।

অদ্ভুত শ্রোতা নয়,
কবিতার জন্য চাই কবিতাপ্রেমী
শুনতে শুনতে কেটে যাবে
হৃদয়ের আলসেমি।।

নীরবে নিভৃতে হোকনা অতিবাহিত
কিছুটা সময় শুধু কবিতার জন্য।
আর সবকিছুর মত কবি,কবিতা,আবৃত্তি শিল্পী
না হয় যেন বাজারের পন্য।।

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯

স্কুল



স্কুল

সুজন নীল

রচনার কাল- ২৩/৬/২০০০

স্কুল সেতো
                মধুর  চেয়ে মিষ্টি,
ঠিক যেন ঐ শ্রাবনের
                বাঁধনহারা বৃষ্টি।
স্কুল সেতো
                ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
করছি মোরা
                  জ্ঞানের অন্বেষণ।
স্কুলটা মনে হয়
                      দুধের মত সাদা,
যাতে নাই কোন
                       দু:খ ক্লেশের কাদা।
আছে শুধু
               শিক্ষকের 
আদর, মমতা
                    আর ভালোবাসা।
স্কুলে নাই কোন
              গরীব ধনীর ভেদাভেদ,
আশির্বাদ সেও
                     শিক্ষক প্রহারেন বেত।
স্কুলটা কখনো
                     নয়তো বৃথা
গড়িছে হেথা
                   আগামীর জাতির নেতা।

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

আমাদের দেশ


আমাদের দেশ

সুজন নীল

রচনার তারিখ- ০৫/০৪/২০০৩

ফুলে ভরা,ফলে ভরা
আমাদের এই দেশ।
দেশের মধ্যেই আছে অনেক
জ্ঞানী গুনী বেশ।।

তাদের জ্ঞানের নেই পরিশেষ
নেইতো তাদের কোন গর্বলেশ।
তাদের দেখে ভিনদেশীরা বলে
বাহবা বাহবা বাংলাদেশ।।

বরষায়


বরষায়

সুজন নীল

রচনার কাল- ৮/১০/২০১৭

সকালের হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি
ভিজিয়ে দিল আমায়,
আর অন্তরের শুদ্ধতায়
হলেম বিশুদ্ধতায়।।

হৃদয়ের তন্ত্রী ও
ভিজে একশা কাপড় জামায়।
নিত্যনতুন তালবাহানায়
ভিজি যেন মন বরষায়।।

নহে শুধু মেঘের আনাগোনায়
এসো বৃষ্টি নামায়।
আমার কুদিন তোমার সুদিন
যাবেনাতো এক বরষায়।।

রোদ্দুর তোর তিক্তজ্বালায়
হাত পেতে চায় মেঘবালিকায়।
অমোঘ প্রেমের সত্য ভাষায়
দিন গুনেছি আশায় আশায়।।

হৃদয় আমার অক্ষত থাক
নিত্য প্রেমের ভালোবাসায়।
একলা আমি পথ হেটেছি
তোর স্মরণে সব বরষায়।।

আমায় তোমায় ভালোবাসায়
অপেক্ষায় ও ভরসায়।
আনন্দ আর অবহেলায়
চেয়ে রইব শেষ বরষায়।।

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

নেতায় সয়লাব দেশ


নেতায় সয়লাব দেশ

সুজন নীল

রচনার কাল- ২৬/৯/১৭

নেতায় নেতায় আজ
সয়লাব হয়ে গেছে দেশ
আজকাল যেন কারখানায়
উৎপাদিত হচ্ছে নেতার বেশ।

আর সেসব বেশ আর
মুখোশ পরেই বনে যাচ্ছে
পাতি নেতা,ছাতি নেতা
আর গিলে খাচ্ছে বাংলাদেশ।

রাস্তার মোরে মোরে দেখতে পাই
বিশালায়তন পোস্টার,
ঈদ পুজোয় মৌসুমি
নেতাদের আনন্দ বার্তার।

যতটা অর্থ নিজেকে প্রকাশের
জন্য উড়ানো হয়
তার সিকিভাগ ও কি
মঙ্গলের জন্য পকেট উজাড় হয়।

দুধের গন্ধ না যাওয়া
ছেলেটাও এখন মস্ত নেতা
তার হাতের ঐ মটরগানটা গান শুনায়
শেষ করে সব ব্যাথা।

বৃষ্টি তুমি কার


বৃষ্টি তুমি কার 

সুজন নীল

রচনার কাল-৪/১০/২০১৩

বৃষ্টি তুমি কার?
অনাদরে অবহেলায় থাকা কাগজ কুড়ানো বালকের
নাকি ভবঘুরে রোদ্দুরে থাকা যুবকের?
বৃষ্টি তুমি কার?
তুমি কি তার, চোখের জল যার?
নাকি প্রবল ভালোবাসা প্রেমিকের
প্রেমিকাকে পেতে যে দুর্বার।
বৃষ্টি তুমি কার?
আশির কাছাকাছি বয়েস,হাড় জিরজিরে
সেই ভ্যান অলার?

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

সুস্মিতা


সুস্মিতা

সুজন নীল

জগতে যে সব নারীরা অনেক সুন্দর করে হাসতে পারে, সেসব নারীদের জন্য আমার এই কবিতা ...।।

মানুষের নামের সাথে কি চমৎকার মিল
তার অবয়বের ,তার আচরণের ।
সুস্মিতা , যেন নামেই ঐকতান  তোলে
এক স্রোতস্বিনী ঝর্নার হাসি ।
সুস্মিতা , তুমি যখন হাসো
এক বর্ণিল চন্দ্রিমার আভা নিয়ে আসো
এই ধরায় , ক্ষণিকের জন্য
আমি পাই লাবন্য প্রভা ।
এই হাসি যেন শুভ্র ভোরবেলাকার
কোন গহীন বনের দোলনচাঁপার শোভা ।
তাই তোমারি সম্মুখে ভয় জাগে
এই হাসির সাথে তাল মেলাতে ।
যদি অরন্যের গহিনতা , ঝর্নার স্রোত
ভাসিয়ে নিয়ে যায় , আমায় এই অবেলাতে ।
তাই ভুলেও তাল মেলাতে যায়না আমি
যদি তোমার হাসির গহীনে ,তোমারে হারিয়ে ফেলি।
সত্যি না মিছে ছলনা জানে শুধুই অন্তরযামী।
জানো সুস্মিতা , তোমার ঐ চিরল দাঁতের
হাসির মোহ ভাবনায়  ঘরের দরজা বন্ধ করে
আয়নায় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে
অবিরত চেষ্টা অবিরল তোমার মতন হাসি হাসতে ।
তোমার রূপ বর্ণনার যতটা পূর্ণতা দিতে পারি,
আমার কবিতায়  কবি বলে যতটা পূর্ণতা  দিতে পারি।
একজন মানুষ হিসেবে এই জগতের কাছে
তোমাকে ততটা পূর্ণতা  দিতে পারিনা ।
কারণ তোমার আমার সমাজ, নিন্দে জানাবে
আমার এই নিষ্পাপ প্রশংসার ।
কবি বলে ইচ্ছের খাতায় এসব ভয়ডর আমার নেই
কিন্তু মানুষ বলে বড্ড ভয় পাই এই  সমাজটাকে ।
তাই হয়তো আমি পারিনা  তোমার মতন
অমন তুলতুলে গালে ভুবন ভোলানো হাসি হাসতে ।
হয়তো তুমি সুস্মিতা বলে তুমিই পারো
বারোটা মাস দিন ক্ষণ রাত্রি
ছলাৎ ছল করে হেসে যেতে ............

কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা


কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা

কবিঃ সুজন নীল

হালকা গড়নের গোলাপী ঠোঁটের সেই মেয়েটা
যাকে প্রথম দেখায় হৃদয় দিয়েছি সেই মেয়েটা।
যার ঠোঁটের কোণের একটু বাঁকা হাসিটা ছিল, নেশায় মাতাল যেমনটা রঙিন দুনিয়া দেখে ঠিক তেমনটা।।

যাকে প্রথম দেখায় চোখ জুড়িয়েছিল,যার না শব্দ আমায় পুড়িয়েছিল,দুঃখওয়ালী সেই মেয়েটা।
যার কাছ থেকে আমি দুঃখ কিনেছিলাম মন ভরে
সেই মেয়েটার গল্প এটা।।

শুনবে সেই গল্পের বাকিটা?
ভালোবাসার বিচিত্র নাট্যে নাট্যকর্মী হওয়ার আমার ছিলনা ইচ্ছেটা।
তবুও আমার চরিত্রহীন নাটকের চরিত্র হওয়ার কারণ ও সেই মেয়েটা।।

তার পছন্দের রঙ ছিল বৈপরীত্য
চকলেট আর আইস্ক্রিম খেতে বড্ড ভালোবাসতো সেই মেয়েটা।।
বন বাদারে,পাহাড়ে পর্বতে ঘুরে বেড়াতো সেই মেয়েটা।
এই অসমাপ্ত গল্পে,নায়িকা ও সেই মেয়েটা।

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

বৃষ্টি


বৃষ্টি 

সুজন নীল

বৃষ্টি তুমি ধুয়ে দিলে চোখের পাতা
বৃষ্টি তুমি কেন দিলেনা ধুয়ে মনের ব্যাথা।

বৃষ্টি তুমি দিনরাত ভর ঝরঝরঝর কইছো কথা
বৃষ্টি তুমি কেন ভাঙলেনা আমার নীরবতা।

বৃষ্টি তুমি কাছেই ছিলে চিরকাল থাকবে বলে
বৃষ্টি তুমি হঠাৎ কেন জুটলে গিয়ে দু:খ দেওয়ার দলে।

বৃষ্টি তুমি ভালোই ছিলে নীল আকাশের অঙনজুড়ে
বৃষ্টি তুমি ঝরলে কেন কান্না হয়ে কাদার বুকে।

বৃষ্টি তুমি একটুকরো সুখ দিয়ে যাও আগুনজ্বলা সূর্যতাপে
বৃষ্টি তুমিই কেন অনল ঝড়াও প্রেম হারানোর সন্তাপে।

বৃষ্টি তুমি প্রেমিক যুগল লুকিয়ে থাকা পাতায় ছাতায়
বৃষ্টি তুমি কেন কান্না হয়ে ঝরলে বল চোখের পাতায়।

বৃষ্টি তুমি অভিমানী হঠাৎ এলে হঠাত গেলে
বৃষ্টি তুমি কেন দু:খ দেওয়ার আমায় পেলে।

তুই


তুই

সুজন নীল

তোর জন্যে কবি হয়ে কাব্য লিখি দিবানিশি
তোর স্বপ্নে কবিতা হয়ে তোর ভিতরে মিশি।।

তুই যে আমার ভালোবাসার অথৈ জলে নদী
তোর বুকেতে নৌকো হয়ে থাকবো নিরবধি।।

তোর জন্যে স্বস্বপ্ন চোখে থাকি আমি নির্ঘুম
কোন সে রাতে তোর আদরে কপালজুড়ে চুম।।

তুই যে আমার প্রাণের ভিতর উতালপাতাল মন
বুকের উপর কান পেতে তুই ভালোবাসি শোন।।

তোর ভিতরে আমায় দেখি,আমার মাঝে তুই
ভালবাসার দিব্যি দিয়ে এক হয়েছি দুই।।

তুই কে আমার জগৎ জানে জানলিনারে তুই
তুই ছাড়া যে আজো আমি একলা ঘরে একলা একলা শুই।।

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯

কবিতা-হিংসার পরিণাম


হিংসার পরিণাম
সুজন নীল
তোমাদের এই নষ্ট শহরে,আমি এক কষ্ট পথিক।
চলতে গিয়ে বলতে কথা হয়  লজ্জা শতধিক।
সরু গলি, কানা গলি সবকিছু আজ রাজপথ
একি রাস্তা,একি উদ্দেশ্য, চোখ মেলি দেখি দ্বিমত।
মনে পড়ে যায় ছোট্টো বেলাকার গল্প
মা বলতো  নদীর ধারে দুই মাথা এক পাখি।
অমৃত ফল ভেসে এল জলে
দেখলো এক মাথার আখি।।
এক মুখ অমৃত খেয়ে তৃপ্ত হল সারা দেহ,
ওদিকে হিংসায় জ্বলে অপমানে কেহ।
মনে মনে শুধায় আসিবে আমার দিন
অমৃত খাওয়ার শোধ সুদে আসলে তুলিব ঋন।।
এলো সেই হিংসুটের মাহেন্দ্রক্ষণ
জলে ভেসে এল বিষ ফল।
হাসিতে হাসিতে বলে সেই ঘৃণ্য মুখ,
হাহাহা এবার কি করিবি বল।।
খেয়েছিলি তুই অমৃত এবার আমি মুখে নিব বিষ
খবরদার আমায় যদি বাধা দিস।
দেখিয়ে আমায় খেয়েছিলি অমৃত ফল,
এবার বিষফল খেয়ে দেব মরণ ছোবল।।
আমি শুধোয় মাকে তারপর কি হলো মা
মা বললে,
তারপর সেই ২ মাথাওয়ালা পাখির হিংসুটে মাথাটি বিষফল খেয়ে ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে।
এই হল হিংসার শেষ  পরিণতি।।

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

স্ট্রেস সলিউশান রাইডার



যদি আমি একটা পানিভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করি, এই গ্লাসের ওজন কত হতে পারে? আপনার উত্তর ৫০গ্রাম - ৫০০ গ্রাম, একটা হতে পারে। এই পানির গ্লাসের ওজনটা ফ্যাক্ট নয়,ফ্যাক্ট হলো এটাকে ধরে রাখা। যদি এটা আপনি একমিনিট হাতে ধরে রাখেন তাহলে ঠিক আছে,কিন্তু যদি ১ ঘন্টা ধরে রাখেন তাহলে একটুপর হাত ব্যাথা করতে শুরু করবে,আর যদি ১ দিন ধরে রাখেন তাহলে আপনার জন্য এম্বুলেন্স ডাকতে হতে পারে।এখানে ম্যাটার হলো টাইম,এই একি ওয়েট একটানা ধরে রাখার  কারণেই বিপত্তি ঘটবে,তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? মাঝেমাঝে পানির গ্লাসটাকে নামিয়ে বিশ্রাম  নিতে হবে,তাহলে আবার  দীর্ঘক্ষণ পানির গ্লাসটা ধরে রাখা যাবে।ঠিক এভাবে জীবনে স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য মাথার সব চিন্তা নামিয়ে বিশ্রাম বা রিফ্রেশ হয়ে নিতে হবে।যাতে আবার আমরা খুব সহজে এই চিন্তাগুলোকে আবারো বহন করতে পারি।এখন প্রশ্ন হলো ভাই এতো সব চিন্তার বোঝা মাথা থেকে নামাবো কি করে?
আজকে আমি আপনাদের এই বিষয়ের সমাধান দিবো।

স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে টাইম ম্যানেজ করলে হবেনা শুধু আপনাকে টাইম ক্রিয়েট করতে হবে।এজন্য আপনার পুরোদিনের সময়টাকে নিয়ে তিনটা রাইডারে তথা যানে চড়তে হবে,সারাদিন্টা হবে ভ্রমণের। ঘুরতে আমরা কে না পছন্দ করি। প্রথম রাইডারের নাম দিলাম আমি দ্রুতযান বা স্পীড রাইডার ,দ্বিতীয় বিভাগের নাম থামুন যান বা স্টপ রাইডার আর তৃতীয় রাইডারের নাম স্লোযান স্লো রাইডার ।
প্রথমেই আলোচনা করব দ্রুতজান নিয়ে,এটা হলো আসলে একজন মানুষের ক্রিয়েটিভ টাইম জোন,এটা কারো জন্য হতে পারে খুব সকালবেলা,কারো জন্য লেটনাইট,এখানে আপনি খুব সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় থাকেন যেটাকে পিক ওয়ার্ক পারফরমেন্স বলা হয়,এর ব্যাপ্তিকাল ধরুন দুই ঘন্টা।এখানে অজুহাত বা ডিস্ট্রাক্সান শুন্য থাকবে,এখানে মোবাইল, টিভি কিছুই এলাউ করা যাবেনা। শুধুমাত্র দুইঘণ্টার জন্য পুরো মনোযোগ দিয়ে শুধুমাত্র একটা কাজ ই করতে হবে।যেকাজটা আপনার জীবনে খুবই অর্থপূর্ণ হতে পারে সেটা যেমন -পড়ালেখা,গান করা,প্রজেক্টে কাজ, রিসার্চ। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের জন্য আমরা একই সময়ে অনেকগুলো কাজ একসাথে করতে চাই এবং করি,কেমন সেটা একটু ব্যাখ্যা করি যেমন পড়তে পড়তে একটু গিটার বাজালাম, একটু গান করলাম, ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম সাথে হোয়াটস অ্যাপে গার্ল্ফ্রেন্ডকে একটু নক  করলাম,আবার ওদিকে ইউটিউবে একটা নতুন ভিডিও আসলো সেটাও দেখে নিলাম,মানে একসাথে দশবারটা কাজ একসাথে করা শুরু করে দিলাম।

ভাবুন একবার আপনার একহাতে একটা গ্লাস ধরতে বলা হল,তারপর আরেক হাতে আরেকটা গ্লাস,এরপর মাথায় একটা বোঝা নিতে বলা হলো তখন আপনার স্ট্রেস লেভেল কোথায় থাকবে? তারপর আবার নাকের উপর একটা প্লেট নিতে বলা হল,মুখে আবার একটা প্লেট কামড়ে ধরলেন তাহলে এবার স্ট্রেস লেভেলের  মাত্রাটা একবার ভাবুন? বুঝতে পারছেন আপনি এতোদিন কি করেছেন? মজার কথা হল আমরাও একসাথে দশবারটা জিনিস একসাথে মাথায় নিয়ে থাকি, ফলে স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে এবং আমাদের আচরণে তার একটা বড় প্রভাব পড়ে আর আচরণের পরিবর্তন হয়।এটার সলিউশান হল আপনি একিই সময়ে একটা কাজ করুন,দেখবেন কোথায় স্ট্রেস,কোন স্ট্রেস নেই,আর থাকলেও সেটা মিনিমাম যেটা আপনার ক্ষতি করবেনা।
আমরা মাল্টি টাক্সিং এর নামে অনেকগুলো কাজ একসাথে করার চেষ্টা করি,যেটা আসলে আমাদের মানব মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, আর এতেই স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে।এটা মূলত একটা ভার্চুয়াল কন্সেপ্ট,যেটা শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। মানব মস্তিষ্কে মাল্টি টাস্কিং নামে কোন জিনিসই হয়না।এই স্পীড রাইডারে উঠার পর আপনাকে মাল্টি টাক্সিং বন্ধ করে দিতে হবে,একটা রুলস এখানে মেনে চলতে হবে আর তা হলো ওয়ান জব এট এ টাইম,শুধুমাত্র একটি কাজ ই করবেন।আর যদি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে তবে প্রথম কাজটি পুরোপুরিভাবে শেষ করার পর করবেন।এরপর প্রতিবার স্পীড রাইডারে চড়ার পরে আপনাকে চড়তে হবে এক ঘন্টার থামুন বা স্টপ রাইডারে।এখানে আপনি আপনার আপকামিং স্পীড রাইডারে  চড়ার জন্য  নিজেকে রেডি করবেন, রিফ্রেশ হবেন। আজকের দিনে আমাদের জীবনে ট্রেসের কোন অভাব নেই,অভাব হলো রিকভারির।এই স্টপ  রাইডারে উঠার পর আপনার ফোকাস থাকতে হবে আর ফোকাসটা থাকবে ঠিক স্পীড রাইডারের  বিপরীত, এখানে কোন ক্রিয়েটিভ কাজের ব্যাপারে ভাবা,বা রিসার্চ এগুলো একদম ই করা যাবেনা। এখানে যে রুলসটা মেনে চলবেন তা হল নো ওয়ার্ক, নো থিংকিং।এই যানে আপনি সময়টাকে সেল্ফিস ব্যবহার করবেন,অর্থাৎ এখানে নিজেকে কেবল রিফ্রেশ করবেন,এখানে শারিরীক এবং মানসিক দুইভাবেই রিফ্রেশ হবেন, রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য এখানে আপনি মেডিটেশন, ইয়োগা, হাল্কা শারিরীক ব্যায়াম করতে পারেন।অথবা কোন রিফ্রেশিং মিউজিক ও শুনতে পারেন,তবে রিফ্রেশিং মিউজিক মানে জাকানাকা জাকানাকা গানটা নিশ্চয় নাহ।যাই হোক আপনি যেন রিফ্রেশ ফিল করেন।

স্পীড রাইডার  আর স্টপ রাইডারের  মাঝখানে স্লোযান  বা স্লো রাইডার একটা ট্রান্সলিশনের কাজ করে।স্লোযান আমাদের সবার ডিফল্ট যান। এই স্লোযান এক একজন এক এক সময়ে উঠতে পারেন,যেমন আমার জন্য এটা দুপুরে লাঞ্চের পর আসে।এটাকে আমরা কমফোর্ট জোন ও বলতে পারি।এখানে আপনার  স্বাধীনতা আছে নিজের ইচ্ছেমত সবকাজ করার,এখানে আপনি চানতো টিভি দেখতে পারেন,ইউটিউবে ঘুরতে পারেন বা গেইমস খেলতে পারেন যেটা আপনার ইচ্ছে কিন্তু এই যানে থাকার সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ,সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই বর্জনীয়। আপনার এই রাইডারে চড়া ৬-৮ ঘন্টা অব্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।ব্যাক্তিভেদে তারতম্য হতে পারে।

এখন আপনি আমার স্ট্রেস সলুউশান রাইডারে চড়ার কথা ভেবে চিন্তা করছেন আজকে থেকে এটা পারফেক্টলি  ব্যবহার করবেন,তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন, কেননা এটা একদিনে হওয়ার ব্যাপার না। স্পীড রাইডারে ফুল পারফরমেন্সে কাজ করার জন্য আগে আপনাকে কিছু দিনের জন্য প্রাক্টিস করে নিতে হবে,তারপর এটা  আপনার একটা অভ্যেসে পরিণত হবে। এই সময়ে আপনাকে একটা বিষয়ে সচেতন হতে হবে যাতে কখনই আপনি একটা রাইডারে চড়ার সময় আরেকটা রাইডারে লাফ না দেন,তাহলেই আপনার ট্রেসকে আপনি নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবেন,আর যদি রাইডার থেকে রাইডারে লাফাতে থাকেন তাহলে আপনার অবস্থা কি হবে সেটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়। এক্সিডেন্ট করে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা হবে,তাই সাবধান থাকবেন।
তবে যদি কোন ইমার্জেন্সী চলে আসে তাহলে আপনি বলবেন মনে মনে আমি এখন স্টপ  রাইডারে না চড়ে স্পীড রাইডারে চড়তে চাই।তিনবার বলুন তারপর স্পীড রাইডারে  মানে সিরিয়াস ওয়ার্কিং এ যোগ দিন।যাতে তিনটি যান বা রাইডারের তফাৎটা বুঝা যায়। মনোবিজ্ঞানে স্ট্রেস এমন একটা রোগ যা আপনাকে একেবারে শেষ করে দিবে ক্যান্সারের মত আস্তে আস্তে।মানুষের জীবনে সাকসেস বাড়ার সাথেসাথে স্ট্রেস ও বাড়তে থাকে।তাই আমেরিকার বেশিরভাগ লোক এই স্ট্রেসে বেশি ভুগে।তাই এটাকে ম্যানেজ,কন্ট্রোল করার জন্য যদি কোন স্টেপ না নেন তবে এটা আপনার সুখশান্তি তো কেড়ে নেবেই সাথে আপনার জীবন ও কেড়ে নিবে।
সবশেষে আমার লেখা থেকে আপনি উপকৃত হোন তবেই আমার লেখার স্বার্থকতা,আরো মানসিক সমস্যা ও তার স্মার্ট সলিউশান নিয়ে সামনে আরো আলোচনা হবে।
সুস্থ সুন্দর থাকুন,জীবনে সুখী ও সফল হোন।

শুভকামনায়
সুজন নীল
স্পেশ্যালিস্ট
জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভারসিটি /ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউনিট
অর্গানাজেশন ডেভেলপমেন্ট , ব্র‍্যাক

সাইকোলজিস্ট ও প্রধান প্রশিক্ষক
সুজন নীল আর্ট স্কুল এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন

মা দিবসে উপলব্ধি

মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধ...