শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০
দূর্যোগে নারী
এখন যে গল্পটা বলবো এটা আমাদের শহুরে উচ্চ শিক্ষিত সমাজের,যেখানে তারা দাবি করে তারা সব বিষয়ে সচেতন। আসলেই কি তাই?
লাবণ্য এই বাঙালি সমাজের উচ্চশিক্ষিত শহুরে পরিবারের এক মেয়ের নাম। যদিও নামটি ছদ্মনাম তবুও এই সমাজেরই একটি চরিত্র। গতকাল রাত হতেই লাবণ্যের পিরিয়ড শুরু হয়েছে আর এরমধ্যে সারা পৃথিবীজুড়েই করোনা আতংক।সে এক্টু বেশিই ভয় পেয়ে গেছে এবার কারণ গত ১০ দিন আগেই তার ঋতুচক্র শেষ হয়েছিল। হরমোলান ইমব্যালান্সের কারণে তাকে বেশ কয়েকবার এইরকম তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেসময় দেশের পরিস্থিতি ভালো ছিল ডাক্তারকে দেখাতে পেরেছিল কিন্তু এই দূর্যোগের সময়ে কি করবে সে ভেবে পাইনা। এরমধ্যে মুড সুইং তো আছেই।এরমাঝে ঘরে সবাই বন্ধী।বাবা, বড় ভাই,এক চাচা ও বিপদে পড়ে এসেছে তাদের বাসায়।এতোসব লোকের প্রতিদিনের খাবার,সকাল দুপুর সন্ধ্যায় নাস্তা বানাতে বানাতে লাবণ্য ও তার মা গত দু সপ্তাহে প্রায় হাপিয়ে উঠেছে । এরমধ্যে লাবণ্য আবার পিরিয়ডের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।লাবণ্যের বড় ভাই এক সমাজ কল্যাণ সংস্থার বড় পদের কর্মকর্তা বাবা ও রিটায়ার্ড অফিসার,চাচা কাজে যদিও কিছু করেনা কিন্তু নিজেকে সমাজ উন্নয়ন কর্মী বলেই দাবি করে।এছাড়া নেট দুনিয়ায় তার ব্যাপক নামডাক মানবতাবাদী হিসেবে।আজ সকাল থেকে লাবণ্যের মুড সুইং, এর মধ্যেই তার বড় ভাই বলছে লাবণ্য সারাদিন করে কি নিজের রুমে কোন কাজকর্ম করেনা, কিছুই করেনা। আমাদের নাস্তাটা অন্তত বানাতে পারে।
ভাই আর চাচা এদের সারাদিনের কাজ খবর দেখা করোনায় কোন দেশে কতজন মরলো সেই খবর রাখা আর বেলা বারটার পর ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করা কয়েক পদের বাহারি নাস্তা দিয়ে তারপর খবর দেখা এরপর আবার দুপুরের কয়েক পদের খাবার খাওয়া এরপরে আবার খবর দেখা তারপর একটা হাল্কা ঘুম দিয়ে উঠে চা আর নাস্তা বিছানার পাশে তো চাই।এরপর দেশবিদেশের করোনার গল্প তো চলছেই রাত ১১ টা অব্ধি ড্রয়িং রুমে, তারপর আবার রাতের বাহারি দুই চার পদের রান্না দিয়ে ভূরিভোজন। এভাবেই কাটছে গত দুই সপ্তাহ। অথচ তাদের চোখেই পড়েনা এই কঠিন পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা দুইজন নারীর উপর কি পরিমাণ কাজের চাপ,মানসিক চাপ যাচ্ছে।এতোবড় মস্তিষ্কে তাদের এই চিন্তা কোনদিন আসেনি,মনে হয় আসবেনা কোনদিন ও।লাবণ্য একদিন শুয়ে আছে শুনতে পেল তার চাচা বলছে বাসায় মেয়েদের কি আর কাজ রান্না করা এই আর কি,এ আর এমন কি কাজ।লাবণ্য বিছানা ছেড়ে উঠে এসে বললো তোমাদের যদি তাই মনে হয় একটা চ্যালেঞ্জ করি শুধুমাত্র আগামীকালের কাজগুলো তোমরা করবে আর আমরা দুজন রেস্ট করবো।আগপিছ চিন্তা না করে চাচা বললো ঠিক আছে এটা আর এমন কি কাজ।পরের দিন সকাল বেলা লাবণ্য এসে তাদের ডেকে দিল, তাদের তো মেজাজ চরমে এতো ভোরে কেউ ঘুম থেকে উঠে তখন কিন্তু সকাল নয়টা। লাবণ্য বললো চাচা, ভাইয়া, বাবা চ্যালেঞ্জের কথা ভুলে যেওনা। তিনজন মিলে চা আর নুডলস রান্না করতেই হিমসিম খেয়ে গেল।১১ টায় শেষ হলো নাস্তা পর্ব।এবার দুপুরের খাবার তিন পদের রান্না, ভাত ও রান্না করতে হবে।রান্না তো হলো কিন্তু তিনটে বেজে গেল তিন পুরুষের সব করতে করতেই।ভাই তো রেগে আগুন চাচার উপর কেন এই চ্যালেঞ্জ নিতে গেল।লাবণ্য তাদের স্মরণ করিয়ে দিল বিকেলের নাস্তা ও চা বানাতে হবে।খেয়েই তারা লেগে পড়লো নাস্তা বানাতে বিকেল পাঁচটায় নাস্তা হলো এরপর তারা ক্লান্ত এবং তারা স্বীকার করলো সত্যিই সংসারের অনেক কাজ যা একা নারীর উপর অনেক চাপ। তারা সিদ্ধান্ত নিল একসাথে তারা রান্না করবে শিফট করে তাহলে আর কারো উপর চাপ পড়বেনা।সমযোতায় সবাই হাসতে লাগল।এরমধ্যে লাবণ্যের ঘুমটা ভেংগে গেল।লাবণ্য এতোক্ষণ এই সমাজে সমতার স্বপ্ন দেখছিল।
এই কথা গুলো এই চ্যালেঞ্জটা সত্যিই যদি সে তার ঘরে থাকা অকালকুষ্মাণ্ড গুলোকে ছুঁড়ে দিতে পারতো,তাহলে কতো না ভালো হতো।কিন্তু পুরুষতান্ত্রিকতার ভয় তাকে সেই কথাগুলো, চ্যালেঞ্জ করার কথা বলার সাহস ও দিচ্ছেনা।এই চিত্র গল্প নয় এই চিত্র আমাদের শিক্ষিত সমাজের,আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজের।আমরা কি পারিনা এই চিত্রটা লাবণ্যের স্বপ্নে দেখা সমতার গল্প করতে! আমরা কি পারিনা এই কঠিন দূর্যোগের মুহুর্তে ঘরের কাজগুলো ভাগাভাগি করে নারীর উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমিয়ে তাকে মানসিক ও শারিরীক শান্তি দিতে।আমাদের এই পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষদের চোখ কবে খুলবে আমার জানা নেই,গত কয়েক সপ্তাহ ব্র্যাকের একটা রিসার্চ এর সার্ভে করতে গিয়ে আমার জেন্ডার লেন্সে উঠে এসেছে সমাজের এই চিত্র।এই চিত্র সারা শহরজুড়ে, প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারে নারী শারিরীকভাবে লাঞ্চিত না হলে ও মানসিকভাবে দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত। নিম্নমধ্যবিত্ত কিম্বা নিম্নবিত্ত সমাজে এই চিত্র যে কত করুণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।রীতিমতো প্রতিদিন চলছে শারিরীক নির্যাতন, এরসাথে মেরিটাল রেপ তো প্রতিদিনের কাহিনী।বাকিসব ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, যৌতুকের জন্যে হত্যা ও হয়রানির গল্প আমি নাইবা বললাম,সেই চিত্র আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখি।এই সমাজ কি বদলাবে? মানসিকতার পরিবর্তন কি আসবে আমাদের আচরণে? যদি না আসে এই সমাজে লাবণ্যরা আর স্বপ্ন দেখবেনা,উচ্চশিক্ষার জন্যে তারা যে স্বপ্ন দেখে সেটাও হবে দুঃস্বপ্ন। পরিবর্তন আনতে হলে আজ এখনই সময় পরিবর্তনের।আমরা পুরুষেরা চাইলেই একটা সুন্দর সমাজ এই বাংলাদেশকে উপহার দিতে পারি।সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি করবেন।
পরিশেষে বলতে চাই,,,
এমন একটি পৃথিবী আমাদের ও কাম্যযেখানে থাকবে সকলের সমতা ও সাম্য।।
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০
ও মানুষ আর কত
ও
মানুষ আর কত
সুজন নীল
সব
কিছু ঠিক রবে
শুধু সত্যি মিথ্যে
হয়ে যাব তুমি আমি ।
বুক ভরে শ্বাস নেওয়াটা
মানুষ কি বুঝেছে
কতটা দামী?
শুধু সত্যি মিথ্যে
হয়ে যাব তুমি আমি ।
বুক ভরে শ্বাস নেওয়াটা
মানুষ কি বুঝেছে
কতটা দামী?
ও
মানুষ নাকি এখনো আলসেমী?
আর কত আর কত!
তোমার আঘাতে আঘাতে
পৃথিবীর যত ক্ষত
ফিরিয়ে দিবে সে আঘাত
মনে রেখ নিজের মত।
আর কত আর কত!
তোমার আঘাতে আঘাতে
পৃথিবীর যত ক্ষত
ফিরিয়ে দিবে সে আঘাত
মনে রেখ নিজের মত।
এখনো
কি অবুঝ?এখনো কি কাঁচা?
বুঝলেনা বুঝি এক হয়ে গেছে মরা আর বাঁচা।
ও মানুষ আর কত আর কত
বুঝবে কি সেদিন হবে যেদিন পূর্ণ কোটির শত?
ও মানুষ আর কত আর কত???
বুঝলেনা বুঝি এক হয়ে গেছে মরা আর বাঁচা।
ও মানুষ আর কত আর কত
বুঝবে কি সেদিন হবে যেদিন পূর্ণ কোটির শত?
ও মানুষ আর কত আর কত???
করোনাতে করনীয়
করোনাতে করনীয়
সুজন নীল
সুজন নীল
আতংক নয় ,চাই জনসচেতনতা
মানবো নিয়ম বাংলার সর্বজনতা।
বাঁচতে হলে জানতে হবে, জানাতে হবে
সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে
বাঁচতে হলে থাকবো ঘরে
লাগলে কিছু আনবো প্রশাসনকে ফোন করে
করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে
মানবতার তরে যাবনা দূরে সরে
আইসোলেট করবো তারে
ফোনে শক্তি সাহস দেব
সমবেদনা ভরে।।
সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে
বাঁচতে হলে থাকবো ঘরে
লাগলে কিছু আনবো প্রশাসনকে ফোন করে
করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে
মানবতার তরে যাবনা দূরে সরে
আইসোলেট করবো তারে
ফোনে শক্তি সাহস দেব
সমবেদনা ভরে।।
লক্ষণ যদি দেখতে পাই নিজের অথবা প্রিয়জনের
সেবা, মানসিক শক্তি হবো তার প্রতিক্ষণের।
চৌদ্দদিনের কোয়ারেন্টাইনে তারে রাখবো ঘরে
স্বযতনে ঘরের দরজা বন্ধ করে।
বাঁচতে হলে আতংক নয় চাই মানসিক শক্তি
মানুষ মানুষের জন্যে মানুষকে ভক্তি।।
সেবা, মানসিক শক্তি হবো তার প্রতিক্ষণের।
চৌদ্দদিনের কোয়ারেন্টাইনে তারে রাখবো ঘরে
স্বযতনে ঘরের দরজা বন্ধ করে।
বাঁচতে হলে আতংক নয় চাই মানসিক শক্তি
মানুষ মানুষের জন্যে মানুষকে ভক্তি।।
শিশু থেকে বৃদ্ধ ভয় পাচ্ছে করোনা
তাদের আমরা নেভেটিভ খবর শোনাবোনা।
শোন তরুন ভাই ও বোন
ঘরে থাকি তৈরি করি ক্রিয়েটিভ জোন।
মানি সকল আইন ও গাইডলাইন
হয়তো তুমিও হবে আইনস্টাইন।।
তাদের আমরা নেভেটিভ খবর শোনাবোনা।
শোন তরুন ভাই ও বোন
ঘরে থাকি তৈরি করি ক্রিয়েটিভ জোন।
মানি সকল আইন ও গাইডলাইন
হয়তো তুমিও হবে আইনস্টাইন।।
দোহাই তোমায় যেওনা আজি ঘরের বাহিরে
বলা কি যায় তোমার সাথেই করোনা আসবে ফিরে।
যদি ভালোবাসো নিজের পরিবার
এখন ঘরের কাজে কর সময় পার।।
বলা কি যায় তোমার সাথেই করোনা আসবে ফিরে।
যদি ভালোবাসো নিজের পরিবার
এখন ঘরের কাজে কর সময় পার।।
বাঁচতে হলে করতে হবে ব্যায়াম ও মেডিটেশান
এতেই তো বেড়ে যাবে অটো হিলিং সিস্টেম ।
নিয়মিত অনুশীলনে শেষ হবে শরীরের লুকানো বিষ
আমরা ও হটিয়ে দেব মহামারী কোভিড -১৯।
এতেই তো বেড়ে যাবে অটো হিলিং সিস্টেম ।
নিয়মিত অনুশীলনে শেষ হবে শরীরের লুকানো বিষ
আমরা ও হটিয়ে দেব মহামারী কোভিড -১৯।
চলো সকল ভেদাভেদ ভুলে ভয় করি ক্ষয়
এসো মানূষ, বলি হোক মানবতার জয়।।
১৬/০৪/২০২০
জনস্বার্থে ছড়াটি শেয়ার করতে পারেন অনুমতি দেওয়া হলো।
এসো মানূষ, বলি হোক মানবতার জয়।।
১৬/০৪/২০২০
জনস্বার্থে ছড়াটি শেয়ার করতে পারেন অনুমতি দেওয়া হলো।
রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯
কবিতার শ্রোতা
কবিতার শ্রোতা
সুজন নীল
রচনার কাল-১৮/১০/১৭
মঞ্চে আছেন বিখ্যাত গুণী শিল্পী
আর সামনে শত শত শ্রোতা,
শিল্পীর মুখে প্রিয় কবিদের কবিতা
যেন পদ্মা খরস্রোতা।
আর সামনে শত শত শ্রোতা,
শিল্পীর মুখে প্রিয় কবিদের কবিতা
যেন পদ্মা খরস্রোতা।
হঠাৎ এক দর্শক বললে
তাতে কি?পাঁচশ, একশ টাকায় তো
টিকেট কেটে এসেছি অন্দরে,
হোকনা একটু তামুক,একটু চিপস
বিস্কুট এই বন্দরে।
টিকেট কেটে এসেছি অন্দরে,
হোকনা একটু তামুক,একটু চিপস
বিস্কুট এই বন্দরে।
কবিতার মায়াজালে
কেউ হাসে,কেউ কাঁদে
কেউবা হারিয়ে যায়
প্রেমিকার মাথা প্রেমিকের কাঁধে।
কেউ হাসে,কেউ কাঁদে
কেউবা হারিয়ে যায়
প্রেমিকার মাথা প্রেমিকের কাঁধে।
কেউবা ব্যস্ত থামাতে
বাচ্চার হঠাত প্রলাপে
দুই বান্ধবী ফিসফিসিয়ে
ব্যস্ত খেজুরে আলাপে।
বাচ্চার হঠাত প্রলাপে
দুই বান্ধবী ফিসফিসিয়ে
ব্যস্ত খেজুরে আলাপে।
আমি জানিনা কজন সত্যি
কবিতা শুনতে আসে
আর কজন সত্যি
কবিতাকে ভালোবাসে।
কবিতা শুনতে আসে
আর কজন সত্যি
কবিতাকে ভালোবাসে।
অদ্ভুত শ্রোতা নয়,
কবিতার জন্য চাই কবিতাপ্রেমী
শুনতে শুনতে কেটে যাবে
হৃদয়ের আলসেমি।।
কবিতার জন্য চাই কবিতাপ্রেমী
শুনতে শুনতে কেটে যাবে
হৃদয়ের আলসেমি।।
নীরবে নিভৃতে হোকনা অতিবাহিত
কিছুটা সময় শুধু কবিতার জন্য।
আর সবকিছুর মত কবি,কবিতা,আবৃত্তি শিল্পী
না হয় যেন বাজারের পন্য।।
কিছুটা সময় শুধু কবিতার জন্য।
আর সবকিছুর মত কবি,কবিতা,আবৃত্তি শিল্পী
না হয় যেন বাজারের পন্য।।
শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯
স্কুল
স্কুল
সুজন নীল
রচনার কাল- ২৩/৬/২০০০
স্কুল সেতো
মধুর চেয়ে মিষ্টি,
ঠিক যেন ঐ শ্রাবনের
বাঁধনহারা বৃষ্টি।
মধুর চেয়ে মিষ্টি,
ঠিক যেন ঐ শ্রাবনের
বাঁধনহারা বৃষ্টি।
স্কুল সেতো
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
করছি মোরা
জ্ঞানের অন্বেষণ।
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
করছি মোরা
জ্ঞানের অন্বেষণ।
স্কুলটা মনে হয়
দুধের মত সাদা,
যাতে নাই কোন
দু:খ ক্লেশের কাদা।
দুধের মত সাদা,
যাতে নাই কোন
দু:খ ক্লেশের কাদা।
আছে শুধু
শিক্ষকের
আদর, মমতা
আর ভালোবাসা।
শিক্ষকের
আদর, মমতা
আর ভালোবাসা।
স্কুলে নাই কোন
গরীব ধনীর ভেদাভেদ,
আশির্বাদ সেও
শিক্ষক প্রহারেন বেত।
গরীব ধনীর ভেদাভেদ,
আশির্বাদ সেও
শিক্ষক প্রহারেন বেত।
স্কুলটা কখনো
নয়তো বৃথা
গড়িছে হেথা
আগামীর জাতির নেতা।
নয়তো বৃথা
গড়িছে হেথা
আগামীর জাতির নেতা।
শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯
আমাদের দেশ
আমাদের দেশ
সুজন নীল
রচনার তারিখ- ০৫/০৪/২০০৩
ফুলে ভরা,ফলে ভরা
আমাদের এই দেশ।
দেশের মধ্যেই আছে অনেক
জ্ঞানী গুনী বেশ।।
তাদের জ্ঞানের নেই পরিশেষ
নেইতো তাদের কোন গর্বলেশ।
তাদের দেখে ভিনদেশীরা বলে
বাহবা বাহবা বাংলাদেশ।।
নেইতো তাদের কোন গর্বলেশ।
তাদের দেখে ভিনদেশীরা বলে
বাহবা বাহবা বাংলাদেশ।।
বরষায়
বরষায়
সুজন নীল
রচনার কাল- ৮/১০/২০১৭
সকালের হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি
ভিজিয়ে দিল আমায়,
আর অন্তরের শুদ্ধতায়
হলেম বিশুদ্ধতায়।।
ভিজিয়ে দিল আমায়,
আর অন্তরের শুদ্ধতায়
হলেম বিশুদ্ধতায়।।
হৃদয়ের তন্ত্রী ও
ভিজে একশা কাপড় জামায়।
নিত্যনতুন তালবাহানায়
ভিজি যেন মন বরষায়।।
ভিজে একশা কাপড় জামায়।
নিত্যনতুন তালবাহানায়
ভিজি যেন মন বরষায়।।
নহে শুধু মেঘের আনাগোনায়
এসো বৃষ্টি নামায়।
আমার কুদিন তোমার সুদিন
যাবেনাতো এক বরষায়।।
এসো বৃষ্টি নামায়।
আমার কুদিন তোমার সুদিন
যাবেনাতো এক বরষায়।।
রোদ্দুর তোর তিক্তজ্বালায়
হাত পেতে চায় মেঘবালিকায়।
অমোঘ প্রেমের সত্য ভাষায়
দিন গুনেছি আশায় আশায়।।
হাত পেতে চায় মেঘবালিকায়।
অমোঘ প্রেমের সত্য ভাষায়
দিন গুনেছি আশায় আশায়।।
হৃদয় আমার অক্ষত থাক
নিত্য প্রেমের ভালোবাসায়।
একলা আমি পথ হেটেছি
তোর স্মরণে সব বরষায়।।
নিত্য প্রেমের ভালোবাসায়।
একলা আমি পথ হেটেছি
তোর স্মরণে সব বরষায়।।
আমায় তোমায় ভালোবাসায়
অপেক্ষায় ও ভরসায়।
আনন্দ আর অবহেলায়
চেয়ে রইব শেষ বরষায়।।
অপেক্ষায় ও ভরসায়।
আনন্দ আর অবহেলায়
চেয়ে রইব শেষ বরষায়।।
মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯
নেতায় সয়লাব দেশ
নেতায় সয়লাব দেশ
সুজন নীল
রচনার কাল- ২৬/৯/১৭
নেতায় নেতায় আজ
সয়লাব হয়ে গেছে দেশ
আজকাল যেন কারখানায়
উৎপাদিত হচ্ছে নেতার বেশ।
সয়লাব হয়ে গেছে দেশ
আজকাল যেন কারখানায়
উৎপাদিত হচ্ছে নেতার বেশ।
আর সেসব বেশ আর
মুখোশ পরেই বনে যাচ্ছে
পাতি নেতা,ছাতি নেতা
আর গিলে খাচ্ছে বাংলাদেশ।
মুখোশ পরেই বনে যাচ্ছে
পাতি নেতা,ছাতি নেতা
আর গিলে খাচ্ছে বাংলাদেশ।
রাস্তার মোরে মোরে দেখতে পাই
বিশালায়তন পোস্টার,
ঈদ পুজোয় মৌসুমি
নেতাদের আনন্দ বার্তার।
বিশালায়তন পোস্টার,
ঈদ পুজোয় মৌসুমি
নেতাদের আনন্দ বার্তার।
যতটা অর্থ নিজেকে প্রকাশের
জন্য উড়ানো হয়
তার সিকিভাগ ও কি
মঙ্গলের জন্য পকেট উজাড় হয়।
জন্য উড়ানো হয়
তার সিকিভাগ ও কি
মঙ্গলের জন্য পকেট উজাড় হয়।
দুধের গন্ধ না যাওয়া
ছেলেটাও এখন মস্ত নেতা
তার হাতের ঐ মটরগানটা গান শুনায়
শেষ করে সব ব্যাথা।
ছেলেটাও এখন মস্ত নেতা
তার হাতের ঐ মটরগানটা গান শুনায়
শেষ করে সব ব্যাথা।
বৃষ্টি তুমি কার
বৃষ্টি তুমি কার
সুজন নীল
রচনার কাল-৪/১০/২০১৩
বৃষ্টি তুমি কার?
অনাদরে অবহেলায় থাকা কাগজ কুড়ানো বালকের
নাকি ভবঘুরে রোদ্দুরে থাকা যুবকের?
বৃষ্টি তুমি কার?
তুমি কি তার, চোখের জল যার?
নাকি প্রবল ভালোবাসা প্রেমিকের
প্রেমিকাকে পেতে যে দুর্বার।
বৃষ্টি তুমি কার?
আশির কাছাকাছি বয়েস,হাড় জিরজিরে
সেই ভ্যান অলার?
অনাদরে অবহেলায় থাকা কাগজ কুড়ানো বালকের
নাকি ভবঘুরে রোদ্দুরে থাকা যুবকের?
বৃষ্টি তুমি কার?
তুমি কি তার, চোখের জল যার?
নাকি প্রবল ভালোবাসা প্রেমিকের
প্রেমিকাকে পেতে যে দুর্বার।
বৃষ্টি তুমি কার?
আশির কাছাকাছি বয়েস,হাড় জিরজিরে
সেই ভ্যান অলার?
রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯
সুস্মিতা
সুস্মিতা
সুজন নীল
জগতে যে সব নারীরা অনেক সুন্দর করে হাসতে পারে, সেসব নারীদের জন্য আমার এই কবিতা ...।।
মানুষের নামের সাথে কি চমৎকার মিল
তার অবয়বের ,তার আচরণের ।
সুস্মিতা , যেন নামেই ঐকতান তোলে
এক স্রোতস্বিনী ঝর্নার হাসি ।
তার অবয়বের ,তার আচরণের ।
সুস্মিতা , যেন নামেই ঐকতান তোলে
এক স্রোতস্বিনী ঝর্নার হাসি ।
সুস্মিতা , তুমি যখন হাসো
এক বর্ণিল চন্দ্রিমার আভা নিয়ে আসো
এই ধরায় , ক্ষণিকের জন্য
আমি পাই লাবন্য প্রভা ।
এক বর্ণিল চন্দ্রিমার আভা নিয়ে আসো
এই ধরায় , ক্ষণিকের জন্য
আমি পাই লাবন্য প্রভা ।
এই হাসি যেন শুভ্র ভোরবেলাকার
কোন গহীন বনের দোলনচাঁপার শোভা ।
কোন গহীন বনের দোলনচাঁপার শোভা ।
তাই তোমারি সম্মুখে ভয় জাগে
এই হাসির সাথে তাল মেলাতে ।
যদি অরন্যের গহিনতা , ঝর্নার স্রোত
ভাসিয়ে নিয়ে যায় , আমায় এই অবেলাতে ।
এই হাসির সাথে তাল মেলাতে ।
যদি অরন্যের গহিনতা , ঝর্নার স্রোত
ভাসিয়ে নিয়ে যায় , আমায় এই অবেলাতে ।
তাই ভুলেও তাল মেলাতে যায়না আমি
যদি তোমার হাসির গহীনে ,তোমারে হারিয়ে ফেলি।
যদি তোমার হাসির গহীনে ,তোমারে হারিয়ে ফেলি।
সত্যি না মিছে ছলনা জানে শুধুই অন্তরযামী।
জানো সুস্মিতা , তোমার ঐ চিরল দাঁতের
হাসির মোহ ভাবনায় ঘরের দরজা বন্ধ করে
আয়নায় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে
অবিরত চেষ্টা অবিরল তোমার মতন হাসি হাসতে ।
তোমার রূপ বর্ণনার যতটা পূর্ণতা দিতে পারি,
আমার কবিতায় কবি বলে যতটা পূর্ণতা দিতে পারি।
একজন মানুষ হিসেবে এই জগতের কাছে
তোমাকে ততটা পূর্ণতা দিতে পারিনা ।
হাসির মোহ ভাবনায় ঘরের দরজা বন্ধ করে
আয়নায় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে
অবিরত চেষ্টা অবিরল তোমার মতন হাসি হাসতে ।
তোমার রূপ বর্ণনার যতটা পূর্ণতা দিতে পারি,
আমার কবিতায় কবি বলে যতটা পূর্ণতা দিতে পারি।
একজন মানুষ হিসেবে এই জগতের কাছে
তোমাকে ততটা পূর্ণতা দিতে পারিনা ।
কারণ তোমার আমার সমাজ, নিন্দে জানাবে
আমার এই নিষ্পাপ প্রশংসার ।
কবি বলে ইচ্ছের খাতায় এসব ভয়ডর আমার নেই
কিন্তু মানুষ বলে বড্ড ভয় পাই এই সমাজটাকে ।
তাই হয়তো আমি পারিনা তোমার মতন
অমন তুলতুলে গালে ভুবন ভোলানো হাসি হাসতে ।
হয়তো তুমি সুস্মিতা বলে তুমিই পারো
বারোটা মাস দিন ক্ষণ রাত্রি
ছলাৎ ছল করে হেসে যেতে ............
আমার এই নিষ্পাপ প্রশংসার ।
কবি বলে ইচ্ছের খাতায় এসব ভয়ডর আমার নেই
কিন্তু মানুষ বলে বড্ড ভয় পাই এই সমাজটাকে ।
তাই হয়তো আমি পারিনা তোমার মতন
অমন তুলতুলে গালে ভুবন ভোলানো হাসি হাসতে ।
হয়তো তুমি সুস্মিতা বলে তুমিই পারো
বারোটা মাস দিন ক্ষণ রাত্রি
ছলাৎ ছল করে হেসে যেতে ............
কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা
কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা
কবিঃ সুজন নীল
হালকা গড়নের গোলাপী ঠোঁটের সেই মেয়েটা
যাকে প্রথম দেখায় হৃদয় দিয়েছি সেই মেয়েটা।
যার ঠোঁটের কোণের একটু বাঁকা হাসিটা ছিল, নেশায় মাতাল যেমনটা রঙিন দুনিয়া দেখে ঠিক তেমনটা।।
যাকে প্রথম দেখায় হৃদয় দিয়েছি সেই মেয়েটা।
যার ঠোঁটের কোণের একটু বাঁকা হাসিটা ছিল, নেশায় মাতাল যেমনটা রঙিন দুনিয়া দেখে ঠিক তেমনটা।।
যাকে প্রথম দেখায় চোখ জুড়িয়েছিল,যার না শব্দ আমায় পুড়িয়েছিল,দুঃখওয়ালী সেই মেয়েটা।
যার কাছ থেকে আমি দুঃখ কিনেছিলাম মন ভরে
সেই মেয়েটার গল্প এটা।।
যার কাছ থেকে আমি দুঃখ কিনেছিলাম মন ভরে
সেই মেয়েটার গল্প এটা।।
শুনবে সেই গল্পের বাকিটা?
ভালোবাসার বিচিত্র নাট্যে নাট্যকর্মী হওয়ার আমার ছিলনা ইচ্ছেটা।
তবুও আমার চরিত্রহীন নাটকের চরিত্র হওয়ার কারণ ও সেই মেয়েটা।।
ভালোবাসার বিচিত্র নাট্যে নাট্যকর্মী হওয়ার আমার ছিলনা ইচ্ছেটা।
তবুও আমার চরিত্রহীন নাটকের চরিত্র হওয়ার কারণ ও সেই মেয়েটা।।
তার পছন্দের রঙ ছিল বৈপরীত্য
চকলেট আর আইস্ক্রিম খেতে বড্ড ভালোবাসতো সেই মেয়েটা।।
বন বাদারে,পাহাড়ে পর্বতে ঘুরে বেড়াতো সেই মেয়েটা।
এই অসমাপ্ত গল্পে,নায়িকা ও সেই মেয়েটা।
চকলেট আর আইস্ক্রিম খেতে বড্ড ভালোবাসতো সেই মেয়েটা।।
বন বাদারে,পাহাড়ে পর্বতে ঘুরে বেড়াতো সেই মেয়েটা।
এই অসমাপ্ত গল্পে,নায়িকা ও সেই মেয়েটা।
শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯
বৃষ্টি
বৃষ্টি
সুজন নীল
বৃষ্টি তুমি ধুয়ে দিলে চোখের পাতা
বৃষ্টি তুমি কেন দিলেনা ধুয়ে মনের ব্যাথা।
বৃষ্টি তুমি দিনরাত ভর ঝরঝরঝর কইছো কথা
বৃষ্টি তুমি কেন ভাঙলেনা আমার নীরবতা।
বৃষ্টি তুমি কেন ভাঙলেনা আমার নীরবতা।
বৃষ্টি তুমি কাছেই ছিলে চিরকাল থাকবে বলে
বৃষ্টি তুমি হঠাৎ কেন জুটলে গিয়ে দু:খ দেওয়ার দলে।
বৃষ্টি তুমি হঠাৎ কেন জুটলে গিয়ে দু:খ দেওয়ার দলে।
বৃষ্টি তুমি ভালোই ছিলে নীল আকাশের অঙনজুড়ে
বৃষ্টি তুমি ঝরলে কেন কান্না হয়ে কাদার বুকে।
বৃষ্টি তুমি ঝরলে কেন কান্না হয়ে কাদার বুকে।
বৃষ্টি তুমি একটুকরো সুখ দিয়ে যাও আগুনজ্বলা সূর্যতাপে
বৃষ্টি তুমিই কেন অনল ঝড়াও প্রেম হারানোর সন্তাপে।
বৃষ্টি তুমিই কেন অনল ঝড়াও প্রেম হারানোর সন্তাপে।
বৃষ্টি তুমি প্রেমিক যুগল লুকিয়ে থাকা পাতায় ছাতায়
বৃষ্টি তুমি কেন কান্না হয়ে ঝরলে বল চোখের পাতায়।
বৃষ্টি তুমি কেন কান্না হয়ে ঝরলে বল চোখের পাতায়।
বৃষ্টি তুমি অভিমানী হঠাৎ এলে হঠাত গেলে
বৃষ্টি তুমি কেন দু:খ দেওয়ার আমায় পেলে।
বৃষ্টি তুমি কেন দু:খ দেওয়ার আমায় পেলে।
তুই
তুই
সুজন নীল
তোর জন্যে কবি হয়ে কাব্য লিখি দিবানিশি
তোর স্বপ্নে কবিতা হয়ে তোর ভিতরে মিশি।।
তোর স্বপ্নে কবিতা হয়ে তোর ভিতরে মিশি।।
তুই যে আমার ভালোবাসার অথৈ জলে নদী
তোর বুকেতে নৌকো হয়ে থাকবো নিরবধি।।
তোর বুকেতে নৌকো হয়ে থাকবো নিরবধি।।
তোর জন্যে স্বস্বপ্ন চোখে থাকি আমি নির্ঘুম
কোন সে রাতে তোর আদরে কপালজুড়ে চুম।।
কোন সে রাতে তোর আদরে কপালজুড়ে চুম।।
তুই যে আমার প্রাণের ভিতর উতালপাতাল মন
বুকের উপর কান পেতে তুই ভালোবাসি শোন।।
বুকের উপর কান পেতে তুই ভালোবাসি শোন।।
তোর ভিতরে আমায় দেখি,আমার মাঝে তুই
ভালবাসার দিব্যি দিয়ে এক হয়েছি দুই।।
ভালবাসার দিব্যি দিয়ে এক হয়েছি দুই।।
তুই কে আমার জগৎ জানে জানলিনারে তুই
তুই ছাড়া যে আজো আমি একলা ঘরে একলা একলা শুই।।
তুই ছাড়া যে আজো আমি একলা ঘরে একলা একলা শুই।।
শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
কবিতা-হিংসার পরিণাম
হিংসার পরিণাম
সুজন নীল
তোমাদের এই নষ্ট শহরে,আমি এক কষ্ট পথিক।
চলতে গিয়ে বলতে কথা হয় লজ্জা শতধিক।
সুজন নীল
তোমাদের এই নষ্ট শহরে,আমি এক কষ্ট পথিক।
চলতে গিয়ে বলতে কথা হয় লজ্জা শতধিক।
সরু গলি, কানা গলি সবকিছু আজ রাজপথ
একি রাস্তা,একি উদ্দেশ্য, চোখ মেলি দেখি দ্বিমত।
একি রাস্তা,একি উদ্দেশ্য, চোখ মেলি দেখি দ্বিমত।
মনে পড়ে যায় ছোট্টো বেলাকার গল্প
মা বলতো নদীর ধারে দুই মাথা এক পাখি।
অমৃত ফল ভেসে এল জলে
দেখলো এক মাথার আখি।।
মা বলতো নদীর ধারে দুই মাথা এক পাখি।
অমৃত ফল ভেসে এল জলে
দেখলো এক মাথার আখি।।
এক মুখ অমৃত খেয়ে তৃপ্ত হল সারা দেহ,
ওদিকে হিংসায় জ্বলে অপমানে কেহ।
ওদিকে হিংসায় জ্বলে অপমানে কেহ।
মনে মনে শুধায় আসিবে আমার দিন
অমৃত খাওয়ার শোধ সুদে আসলে তুলিব ঋন।।
অমৃত খাওয়ার শোধ সুদে আসলে তুলিব ঋন।।
এলো সেই হিংসুটের মাহেন্দ্রক্ষণ
জলে ভেসে এল বিষ ফল।
হাসিতে হাসিতে বলে সেই ঘৃণ্য মুখ,
হাহাহা এবার কি করিবি বল।।
জলে ভেসে এল বিষ ফল।
হাসিতে হাসিতে বলে সেই ঘৃণ্য মুখ,
হাহাহা এবার কি করিবি বল।।
খেয়েছিলি তুই অমৃত এবার আমি মুখে নিব বিষ
খবরদার আমায় যদি বাধা দিস।
খবরদার আমায় যদি বাধা দিস।
দেখিয়ে আমায় খেয়েছিলি অমৃত ফল,
এবার বিষফল খেয়ে দেব মরণ ছোবল।।
এবার বিষফল খেয়ে দেব মরণ ছোবল।।
আমি শুধোয় মাকে তারপর কি হলো মা
মা বললে,
তারপর সেই ২ মাথাওয়ালা পাখির হিংসুটে মাথাটি বিষফল খেয়ে ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে।
এই হল হিংসার শেষ পরিণতি।।
মা বললে,
তারপর সেই ২ মাথাওয়ালা পাখির হিংসুটে মাথাটি বিষফল খেয়ে ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে।
এই হল হিংসার শেষ পরিণতি।।
মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯
স্ট্রেস সলিউশান রাইডার
যদি আমি একটা পানিভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করি, এই গ্লাসের ওজন কত হতে পারে? আপনার উত্তর ৫০গ্রাম - ৫০০ গ্রাম, একটা হতে পারে। এই পানির গ্লাসের ওজনটা ফ্যাক্ট নয়,ফ্যাক্ট হলো এটাকে ধরে রাখা। যদি এটা আপনি একমিনিট হাতে ধরে রাখেন তাহলে ঠিক আছে,কিন্তু যদি ১ ঘন্টা ধরে রাখেন তাহলে একটুপর হাত ব্যাথা করতে শুরু করবে,আর যদি ১ দিন ধরে রাখেন তাহলে আপনার জন্য এম্বুলেন্স ডাকতে হতে পারে।এখানে ম্যাটার হলো টাইম,এই একি ওয়েট একটানা ধরে রাখার কারণেই বিপত্তি ঘটবে,তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? মাঝেমাঝে পানির গ্লাসটাকে নামিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে,তাহলে আবার দীর্ঘক্ষণ পানির গ্লাসটা ধরে রাখা যাবে।ঠিক এভাবে জীবনে স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য মাথার সব চিন্তা নামিয়ে বিশ্রাম বা রিফ্রেশ হয়ে নিতে হবে।যাতে আবার আমরা খুব সহজে এই চিন্তাগুলোকে আবারো বহন করতে পারি।এখন প্রশ্ন হলো ভাই এতো সব চিন্তার বোঝা মাথা থেকে নামাবো কি করে?
আজকে আমি আপনাদের এই বিষয়ের সমাধান দিবো।
স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে টাইম ম্যানেজ করলে হবেনা শুধু আপনাকে টাইম ক্রিয়েট করতে হবে।এজন্য আপনার পুরোদিনের সময়টাকে নিয়ে তিনটা রাইডারে তথা যানে চড়তে হবে,সারাদিন্টা হবে ভ্রমণের। ঘুরতে আমরা কে না পছন্দ করি। প্রথম রাইডারের নাম দিলাম আমি দ্রুতযান বা স্পীড রাইডার ,দ্বিতীয় বিভাগের নাম থামুন যান বা স্টপ রাইডার আর তৃতীয় রাইডারের নাম স্লোযান স্লো রাইডার ।
প্রথমেই আলোচনা করব দ্রুতজান নিয়ে,এটা হলো আসলে একজন মানুষের ক্রিয়েটিভ টাইম জোন,এটা কারো জন্য হতে পারে খুব সকালবেলা,কারো জন্য লেটনাইট,এখানে আপনি খুব সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় থাকেন যেটাকে পিক ওয়ার্ক পারফরমেন্স বলা হয়,এর ব্যাপ্তিকাল ধরুন দুই ঘন্টা।এখানে অজুহাত বা ডিস্ট্রাক্সান শুন্য থাকবে,এখানে মোবাইল, টিভি কিছুই এলাউ করা যাবেনা। শুধুমাত্র দুইঘণ্টার জন্য পুরো মনোযোগ দিয়ে শুধুমাত্র একটা কাজ ই করতে হবে।যেকাজটা আপনার জীবনে খুবই অর্থপূর্ণ হতে পারে সেটা যেমন -পড়ালেখা,গান করা,প্রজেক্টে কাজ, রিসার্চ। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের জন্য আমরা একই সময়ে অনেকগুলো কাজ একসাথে করতে চাই এবং করি,কেমন সেটা একটু ব্যাখ্যা করি যেমন পড়তে পড়তে একটু গিটার বাজালাম, একটু গান করলাম, ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম সাথে হোয়াটস অ্যাপে গার্ল্ফ্রেন্ডকে একটু নক করলাম,আবার ওদিকে ইউটিউবে একটা নতুন ভিডিও আসলো সেটাও দেখে নিলাম,মানে একসাথে দশবারটা কাজ একসাথে করা শুরু করে দিলাম।
ভাবুন একবার আপনার একহাতে একটা গ্লাস ধরতে বলা হল,তারপর আরেক হাতে আরেকটা গ্লাস,এরপর মাথায় একটা বোঝা নিতে বলা হলো তখন আপনার স্ট্রেস লেভেল কোথায় থাকবে? তারপর আবার নাকের উপর একটা প্লেট নিতে বলা হল,মুখে আবার একটা প্লেট কামড়ে ধরলেন তাহলে এবার স্ট্রেস লেভেলের মাত্রাটা একবার ভাবুন? বুঝতে পারছেন আপনি এতোদিন কি করেছেন? মজার কথা হল আমরাও একসাথে দশবারটা জিনিস একসাথে মাথায় নিয়ে থাকি, ফলে স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে এবং আমাদের আচরণে তার একটা বড় প্রভাব পড়ে আর আচরণের পরিবর্তন হয়।এটার সলিউশান হল আপনি একিই সময়ে একটা কাজ করুন,দেখবেন কোথায় স্ট্রেস,কোন স্ট্রেস নেই,আর থাকলেও সেটা মিনিমাম যেটা আপনার ক্ষতি করবেনা।
আমরা মাল্টি টাক্সিং এর নামে অনেকগুলো কাজ একসাথে করার চেষ্টা করি,যেটা আসলে আমাদের মানব মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, আর এতেই স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে।এটা মূলত একটা ভার্চুয়াল কন্সেপ্ট,যেটা শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। মানব মস্তিষ্কে মাল্টি টাস্কিং নামে কোন জিনিসই হয়না।এই স্পীড রাইডারে উঠার পর আপনাকে মাল্টি টাক্সিং বন্ধ করে দিতে হবে,একটা রুলস এখানে মেনে চলতে হবে আর তা হলো ওয়ান জব এট এ টাইম,শুধুমাত্র একটি কাজ ই করবেন।আর যদি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে তবে প্রথম কাজটি পুরোপুরিভাবে শেষ করার পর করবেন।এরপর প্রতিবার স্পীড রাইডারে চড়ার পরে আপনাকে চড়তে হবে এক ঘন্টার থামুন বা স্টপ রাইডারে।এখানে আপনি আপনার আপকামিং স্পীড রাইডারে চড়ার জন্য নিজেকে রেডি করবেন, রিফ্রেশ হবেন। আজকের দিনে আমাদের জীবনে ট্রেসের কোন অভাব নেই,অভাব হলো রিকভারির।এই স্টপ রাইডারে উঠার পর আপনার ফোকাস থাকতে হবে আর ফোকাসটা থাকবে ঠিক স্পীড রাইডারের বিপরীত, এখানে কোন ক্রিয়েটিভ কাজের ব্যাপারে ভাবা,বা রিসার্চ এগুলো একদম ই করা যাবেনা। এখানে যে রুলসটা মেনে চলবেন তা হল নো ওয়ার্ক, নো থিংকিং।এই যানে আপনি সময়টাকে সেল্ফিস ব্যবহার করবেন,অর্থাৎ এখানে নিজেকে কেবল রিফ্রেশ করবেন,এখানে শারিরীক এবং মানসিক দুইভাবেই রিফ্রেশ হবেন, রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য এখানে আপনি মেডিটেশন, ইয়োগা, হাল্কা শারিরীক ব্যায়াম করতে পারেন।অথবা কোন রিফ্রেশিং মিউজিক ও শুনতে পারেন,তবে রিফ্রেশিং মিউজিক মানে জাকানাকা জাকানাকা গানটা নিশ্চয় নাহ।যাই হোক আপনি যেন রিফ্রেশ ফিল করেন।
স্পীড রাইডার আর স্টপ রাইডারের মাঝখানে স্লোযান বা স্লো রাইডার একটা ট্রান্সলিশনের কাজ করে।স্লোযান আমাদের সবার ডিফল্ট যান। এই স্লোযান এক একজন এক এক সময়ে উঠতে পারেন,যেমন আমার জন্য এটা দুপুরে লাঞ্চের পর আসে।এটাকে আমরা কমফোর্ট জোন ও বলতে পারি।এখানে আপনার স্বাধীনতা আছে নিজের ইচ্ছেমত সবকাজ করার,এখানে আপনি চানতো টিভি দেখতে পারেন,ইউটিউবে ঘুরতে পারেন বা গেইমস খেলতে পারেন যেটা আপনার ইচ্ছে কিন্তু এই যানে থাকার সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ,সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই বর্জনীয়। আপনার এই রাইডারে চড়া ৬-৮ ঘন্টা অব্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।ব্যাক্তিভেদে তারতম্য হতে পারে।
এখন আপনি আমার স্ট্রেস সলুউশান রাইডারে চড়ার কথা ভেবে চিন্তা করছেন আজকে থেকে এটা পারফেক্টলি ব্যবহার করবেন,তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন, কেননা এটা একদিনে হওয়ার ব্যাপার না। স্পীড রাইডারে ফুল পারফরমেন্সে কাজ করার জন্য আগে আপনাকে কিছু দিনের জন্য প্রাক্টিস করে নিতে হবে,তারপর এটা আপনার একটা অভ্যেসে পরিণত হবে। এই সময়ে আপনাকে একটা বিষয়ে সচেতন হতে হবে যাতে কখনই আপনি একটা রাইডারে চড়ার সময় আরেকটা রাইডারে লাফ না দেন,তাহলেই আপনার ট্রেসকে আপনি নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবেন,আর যদি রাইডার থেকে রাইডারে লাফাতে থাকেন তাহলে আপনার অবস্থা কি হবে সেটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়। এক্সিডেন্ট করে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা হবে,তাই সাবধান থাকবেন।
তবে যদি কোন ইমার্জেন্সী চলে আসে তাহলে আপনি বলবেন মনে মনে আমি এখন স্টপ রাইডারে না চড়ে স্পীড রাইডারে চড়তে চাই।তিনবার বলুন তারপর স্পীড রাইডারে মানে সিরিয়াস ওয়ার্কিং এ যোগ দিন।যাতে তিনটি যান বা রাইডারের তফাৎটা বুঝা যায়। মনোবিজ্ঞানে স্ট্রেস এমন একটা রোগ যা আপনাকে একেবারে শেষ করে দিবে ক্যান্সারের মত আস্তে আস্তে।মানুষের জীবনে সাকসেস বাড়ার সাথেসাথে স্ট্রেস ও বাড়তে থাকে।তাই আমেরিকার বেশিরভাগ লোক এই স্ট্রেসে বেশি ভুগে।তাই এটাকে ম্যানেজ,কন্ট্রোল করার জন্য যদি কোন স্টেপ না নেন তবে এটা আপনার সুখশান্তি তো কেড়ে নেবেই সাথে আপনার জীবন ও কেড়ে নিবে।
সবশেষে আমার লেখা থেকে আপনি উপকৃত হোন তবেই আমার লেখার স্বার্থকতা,আরো মানসিক সমস্যা ও তার স্মার্ট সলিউশান নিয়ে সামনে আরো আলোচনা হবে।
সুস্থ সুন্দর থাকুন,জীবনে সুখী ও সফল হোন।
শুভকামনায়
সুজন নীল
স্পেশ্যালিস্ট
জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভারসিটি /ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউনিট
অর্গানাজেশন ডেভেলপমেন্ট , ব্র্যাক
সাইকোলজিস্ট ও প্রধান প্রশিক্ষক
সুজন নীল আর্ট স্কুল এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
মা দিবসে উপলব্ধি
মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধ...
-
হিংসার পরিণাম সুজন নীল তোমাদের এই নষ্ট শহরে,আমি এক কষ্ট পথিক। চলতে গিয়ে বলতে কথা হয় লজ্জা শতধিক। সরু গলি, কানা গলি সবকিছু আজ রাজপথ ...
-
যদি আমি একটা পানিভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করি, এই গ্লাসের ওজন কত হতে পারে? আপনার উত্তর ৫০গ্রাম - ৫০০ গ্রাম, একটা হতে পারে। এই...
-
মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধ...

