রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯

কবিতার শ্রোতা


কবিতার শ্রোতা

সুজন নীল

রচনার কাল-১৮/১০/১৭

মঞ্চে আছেন বিখ্যাত গুণী শিল্পী
আর সামনে শত শত শ্রোতা,
শিল্পীর মুখে প্রিয় কবিদের কবিতা
যেন পদ্মা খরস্রোতা।

হঠাৎ এক দর্শক বললে  
তাতে কি?পাঁচশ, একশ টাকায় তো
টিকেট কেটে এসেছি অন্দরে,
হোকনা একটু তামুক,একটু চিপস
বিস্কুট এই বন্দরে।

কবিতার মায়াজালে
কেউ হাসে,কেউ কাঁদে
কেউবা হারিয়ে যায়
প্রেমিকার মাথা প্রেমিকের কাঁধে।

কেউবা ব্যস্ত থামাতে
বাচ্চার হঠাত প্রলাপে
দুই বান্ধবী ফিসফিসিয়ে
ব্যস্ত খেজুরে আলাপে।

আমি জানিনা কজন সত্যি
কবিতা শুনতে আসে
আর কজন সত্যি
কবিতাকে ভালোবাসে।

অদ্ভুত শ্রোতা নয়,
কবিতার জন্য চাই কবিতাপ্রেমী
শুনতে শুনতে কেটে যাবে
হৃদয়ের আলসেমি।।

নীরবে নিভৃতে হোকনা অতিবাহিত
কিছুটা সময় শুধু কবিতার জন্য।
আর সবকিছুর মত কবি,কবিতা,আবৃত্তি শিল্পী
না হয় যেন বাজারের পন্য।।

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯

স্কুল



স্কুল

সুজন নীল

রচনার কাল- ২৩/৬/২০০০

স্কুল সেতো
                মধুর  চেয়ে মিষ্টি,
ঠিক যেন ঐ শ্রাবনের
                বাঁধনহারা বৃষ্টি।
স্কুল সেতো
                ভ্রাতৃত্বের বন্ধন,
করছি মোরা
                  জ্ঞানের অন্বেষণ।
স্কুলটা মনে হয়
                      দুধের মত সাদা,
যাতে নাই কোন
                       দু:খ ক্লেশের কাদা।
আছে শুধু
               শিক্ষকের 
আদর, মমতা
                    আর ভালোবাসা।
স্কুলে নাই কোন
              গরীব ধনীর ভেদাভেদ,
আশির্বাদ সেও
                     শিক্ষক প্রহারেন বেত।
স্কুলটা কখনো
                     নয়তো বৃথা
গড়িছে হেথা
                   আগামীর জাতির নেতা।

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

আমাদের দেশ


আমাদের দেশ

সুজন নীল

রচনার তারিখ- ০৫/০৪/২০০৩

ফুলে ভরা,ফলে ভরা
আমাদের এই দেশ।
দেশের মধ্যেই আছে অনেক
জ্ঞানী গুনী বেশ।।

তাদের জ্ঞানের নেই পরিশেষ
নেইতো তাদের কোন গর্বলেশ।
তাদের দেখে ভিনদেশীরা বলে
বাহবা বাহবা বাংলাদেশ।।

বরষায়


বরষায়

সুজন নীল

রচনার কাল- ৮/১০/২০১৭

সকালের হঠাৎ একপশলা বৃষ্টি
ভিজিয়ে দিল আমায়,
আর অন্তরের শুদ্ধতায়
হলেম বিশুদ্ধতায়।।

হৃদয়ের তন্ত্রী ও
ভিজে একশা কাপড় জামায়।
নিত্যনতুন তালবাহানায়
ভিজি যেন মন বরষায়।।

নহে শুধু মেঘের আনাগোনায়
এসো বৃষ্টি নামায়।
আমার কুদিন তোমার সুদিন
যাবেনাতো এক বরষায়।।

রোদ্দুর তোর তিক্তজ্বালায়
হাত পেতে চায় মেঘবালিকায়।
অমোঘ প্রেমের সত্য ভাষায়
দিন গুনেছি আশায় আশায়।।

হৃদয় আমার অক্ষত থাক
নিত্য প্রেমের ভালোবাসায়।
একলা আমি পথ হেটেছি
তোর স্মরণে সব বরষায়।।

আমায় তোমায় ভালোবাসায়
অপেক্ষায় ও ভরসায়।
আনন্দ আর অবহেলায়
চেয়ে রইব শেষ বরষায়।।

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯

নেতায় সয়লাব দেশ


নেতায় সয়লাব দেশ

সুজন নীল

রচনার কাল- ২৬/৯/১৭

নেতায় নেতায় আজ
সয়লাব হয়ে গেছে দেশ
আজকাল যেন কারখানায়
উৎপাদিত হচ্ছে নেতার বেশ।

আর সেসব বেশ আর
মুখোশ পরেই বনে যাচ্ছে
পাতি নেতা,ছাতি নেতা
আর গিলে খাচ্ছে বাংলাদেশ।

রাস্তার মোরে মোরে দেখতে পাই
বিশালায়তন পোস্টার,
ঈদ পুজোয় মৌসুমি
নেতাদের আনন্দ বার্তার।

যতটা অর্থ নিজেকে প্রকাশের
জন্য উড়ানো হয়
তার সিকিভাগ ও কি
মঙ্গলের জন্য পকেট উজাড় হয়।

দুধের গন্ধ না যাওয়া
ছেলেটাও এখন মস্ত নেতা
তার হাতের ঐ মটরগানটা গান শুনায়
শেষ করে সব ব্যাথা।

বৃষ্টি তুমি কার


বৃষ্টি তুমি কার 

সুজন নীল

রচনার কাল-৪/১০/২০১৩

বৃষ্টি তুমি কার?
অনাদরে অবহেলায় থাকা কাগজ কুড়ানো বালকের
নাকি ভবঘুরে রোদ্দুরে থাকা যুবকের?
বৃষ্টি তুমি কার?
তুমি কি তার, চোখের জল যার?
নাকি প্রবল ভালোবাসা প্রেমিকের
প্রেমিকাকে পেতে যে দুর্বার।
বৃষ্টি তুমি কার?
আশির কাছাকাছি বয়েস,হাড় জিরজিরে
সেই ভ্যান অলার?

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

সুস্মিতা


সুস্মিতা

সুজন নীল

জগতে যে সব নারীরা অনেক সুন্দর করে হাসতে পারে, সেসব নারীদের জন্য আমার এই কবিতা ...।।

মানুষের নামের সাথে কি চমৎকার মিল
তার অবয়বের ,তার আচরণের ।
সুস্মিতা , যেন নামেই ঐকতান  তোলে
এক স্রোতস্বিনী ঝর্নার হাসি ।
সুস্মিতা , তুমি যখন হাসো
এক বর্ণিল চন্দ্রিমার আভা নিয়ে আসো
এই ধরায় , ক্ষণিকের জন্য
আমি পাই লাবন্য প্রভা ।
এই হাসি যেন শুভ্র ভোরবেলাকার
কোন গহীন বনের দোলনচাঁপার শোভা ।
তাই তোমারি সম্মুখে ভয় জাগে
এই হাসির সাথে তাল মেলাতে ।
যদি অরন্যের গহিনতা , ঝর্নার স্রোত
ভাসিয়ে নিয়ে যায় , আমায় এই অবেলাতে ।
তাই ভুলেও তাল মেলাতে যায়না আমি
যদি তোমার হাসির গহীনে ,তোমারে হারিয়ে ফেলি।
সত্যি না মিছে ছলনা জানে শুধুই অন্তরযামী।
জানো সুস্মিতা , তোমার ঐ চিরল দাঁতের
হাসির মোহ ভাবনায়  ঘরের দরজা বন্ধ করে
আয়নায় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে
অবিরত চেষ্টা অবিরল তোমার মতন হাসি হাসতে ।
তোমার রূপ বর্ণনার যতটা পূর্ণতা দিতে পারি,
আমার কবিতায়  কবি বলে যতটা পূর্ণতা  দিতে পারি।
একজন মানুষ হিসেবে এই জগতের কাছে
তোমাকে ততটা পূর্ণতা  দিতে পারিনা ।
কারণ তোমার আমার সমাজ, নিন্দে জানাবে
আমার এই নিষ্পাপ প্রশংসার ।
কবি বলে ইচ্ছের খাতায় এসব ভয়ডর আমার নেই
কিন্তু মানুষ বলে বড্ড ভয় পাই এই  সমাজটাকে ।
তাই হয়তো আমি পারিনা  তোমার মতন
অমন তুলতুলে গালে ভুবন ভোলানো হাসি হাসতে ।
হয়তো তুমি সুস্মিতা বলে তুমিই পারো
বারোটা মাস দিন ক্ষণ রাত্রি
ছলাৎ ছল করে হেসে যেতে ............

কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা


কবিতাঃ সেই মেয়েটার গল্প এটা

কবিঃ সুজন নীল

হালকা গড়নের গোলাপী ঠোঁটের সেই মেয়েটা
যাকে প্রথম দেখায় হৃদয় দিয়েছি সেই মেয়েটা।
যার ঠোঁটের কোণের একটু বাঁকা হাসিটা ছিল, নেশায় মাতাল যেমনটা রঙিন দুনিয়া দেখে ঠিক তেমনটা।।

যাকে প্রথম দেখায় চোখ জুড়িয়েছিল,যার না শব্দ আমায় পুড়িয়েছিল,দুঃখওয়ালী সেই মেয়েটা।
যার কাছ থেকে আমি দুঃখ কিনেছিলাম মন ভরে
সেই মেয়েটার গল্প এটা।।

শুনবে সেই গল্পের বাকিটা?
ভালোবাসার বিচিত্র নাট্যে নাট্যকর্মী হওয়ার আমার ছিলনা ইচ্ছেটা।
তবুও আমার চরিত্রহীন নাটকের চরিত্র হওয়ার কারণ ও সেই মেয়েটা।।

তার পছন্দের রঙ ছিল বৈপরীত্য
চকলেট আর আইস্ক্রিম খেতে বড্ড ভালোবাসতো সেই মেয়েটা।।
বন বাদারে,পাহাড়ে পর্বতে ঘুরে বেড়াতো সেই মেয়েটা।
এই অসমাপ্ত গল্পে,নায়িকা ও সেই মেয়েটা।

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

বৃষ্টি


বৃষ্টি 

সুজন নীল

বৃষ্টি তুমি ধুয়ে দিলে চোখের পাতা
বৃষ্টি তুমি কেন দিলেনা ধুয়ে মনের ব্যাথা।

বৃষ্টি তুমি দিনরাত ভর ঝরঝরঝর কইছো কথা
বৃষ্টি তুমি কেন ভাঙলেনা আমার নীরবতা।

বৃষ্টি তুমি কাছেই ছিলে চিরকাল থাকবে বলে
বৃষ্টি তুমি হঠাৎ কেন জুটলে গিয়ে দু:খ দেওয়ার দলে।

বৃষ্টি তুমি ভালোই ছিলে নীল আকাশের অঙনজুড়ে
বৃষ্টি তুমি ঝরলে কেন কান্না হয়ে কাদার বুকে।

বৃষ্টি তুমি একটুকরো সুখ দিয়ে যাও আগুনজ্বলা সূর্যতাপে
বৃষ্টি তুমিই কেন অনল ঝড়াও প্রেম হারানোর সন্তাপে।

বৃষ্টি তুমি প্রেমিক যুগল লুকিয়ে থাকা পাতায় ছাতায়
বৃষ্টি তুমি কেন কান্না হয়ে ঝরলে বল চোখের পাতায়।

বৃষ্টি তুমি অভিমানী হঠাৎ এলে হঠাত গেলে
বৃষ্টি তুমি কেন দু:খ দেওয়ার আমায় পেলে।

তুই


তুই

সুজন নীল

তোর জন্যে কবি হয়ে কাব্য লিখি দিবানিশি
তোর স্বপ্নে কবিতা হয়ে তোর ভিতরে মিশি।।

তুই যে আমার ভালোবাসার অথৈ জলে নদী
তোর বুকেতে নৌকো হয়ে থাকবো নিরবধি।।

তোর জন্যে স্বস্বপ্ন চোখে থাকি আমি নির্ঘুম
কোন সে রাতে তোর আদরে কপালজুড়ে চুম।।

তুই যে আমার প্রাণের ভিতর উতালপাতাল মন
বুকের উপর কান পেতে তুই ভালোবাসি শোন।।

তোর ভিতরে আমায় দেখি,আমার মাঝে তুই
ভালবাসার দিব্যি দিয়ে এক হয়েছি দুই।।

তুই কে আমার জগৎ জানে জানলিনারে তুই
তুই ছাড়া যে আজো আমি একলা ঘরে একলা একলা শুই।।

শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯

কবিতা-হিংসার পরিণাম


হিংসার পরিণাম
সুজন নীল
তোমাদের এই নষ্ট শহরে,আমি এক কষ্ট পথিক।
চলতে গিয়ে বলতে কথা হয়  লজ্জা শতধিক।
সরু গলি, কানা গলি সবকিছু আজ রাজপথ
একি রাস্তা,একি উদ্দেশ্য, চোখ মেলি দেখি দ্বিমত।
মনে পড়ে যায় ছোট্টো বেলাকার গল্প
মা বলতো  নদীর ধারে দুই মাথা এক পাখি।
অমৃত ফল ভেসে এল জলে
দেখলো এক মাথার আখি।।
এক মুখ অমৃত খেয়ে তৃপ্ত হল সারা দেহ,
ওদিকে হিংসায় জ্বলে অপমানে কেহ।
মনে মনে শুধায় আসিবে আমার দিন
অমৃত খাওয়ার শোধ সুদে আসলে তুলিব ঋন।।
এলো সেই হিংসুটের মাহেন্দ্রক্ষণ
জলে ভেসে এল বিষ ফল।
হাসিতে হাসিতে বলে সেই ঘৃণ্য মুখ,
হাহাহা এবার কি করিবি বল।।
খেয়েছিলি তুই অমৃত এবার আমি মুখে নিব বিষ
খবরদার আমায় যদি বাধা দিস।
দেখিয়ে আমায় খেয়েছিলি অমৃত ফল,
এবার বিষফল খেয়ে দেব মরণ ছোবল।।
আমি শুধোয় মাকে তারপর কি হলো মা
মা বললে,
তারপর সেই ২ মাথাওয়ালা পাখির হিংসুটে মাথাটি বিষফল খেয়ে ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে।
এই হল হিংসার শেষ  পরিণতি।।

মা দিবসে উপলব্ধি

মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধ...