মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৯

স্ট্রেস সলিউশান রাইডার



যদি আমি একটা পানিভর্তি গ্লাস হাতে নিয়ে আপনাকে জিজ্ঞেস করি, এই গ্লাসের ওজন কত হতে পারে? আপনার উত্তর ৫০গ্রাম - ৫০০ গ্রাম, একটা হতে পারে। এই পানির গ্লাসের ওজনটা ফ্যাক্ট নয়,ফ্যাক্ট হলো এটাকে ধরে রাখা। যদি এটা আপনি একমিনিট হাতে ধরে রাখেন তাহলে ঠিক আছে,কিন্তু যদি ১ ঘন্টা ধরে রাখেন তাহলে একটুপর হাত ব্যাথা করতে শুরু করবে,আর যদি ১ দিন ধরে রাখেন তাহলে আপনার জন্য এম্বুলেন্স ডাকতে হতে পারে।এখানে ম্যাটার হলো টাইম,এই একি ওয়েট একটানা ধরে রাখার  কারণেই বিপত্তি ঘটবে,তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? মাঝেমাঝে পানির গ্লাসটাকে নামিয়ে বিশ্রাম  নিতে হবে,তাহলে আবার  দীর্ঘক্ষণ পানির গ্লাসটা ধরে রাখা যাবে।ঠিক এভাবে জীবনে স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য মাথার সব চিন্তা নামিয়ে বিশ্রাম বা রিফ্রেশ হয়ে নিতে হবে।যাতে আবার আমরা খুব সহজে এই চিন্তাগুলোকে আবারো বহন করতে পারি।এখন প্রশ্ন হলো ভাই এতো সব চিন্তার বোঝা মাথা থেকে নামাবো কি করে?
আজকে আমি আপনাদের এই বিষয়ের সমাধান দিবো।

স্ট্রেস থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে টাইম ম্যানেজ করলে হবেনা শুধু আপনাকে টাইম ক্রিয়েট করতে হবে।এজন্য আপনার পুরোদিনের সময়টাকে নিয়ে তিনটা রাইডারে তথা যানে চড়তে হবে,সারাদিন্টা হবে ভ্রমণের। ঘুরতে আমরা কে না পছন্দ করি। প্রথম রাইডারের নাম দিলাম আমি দ্রুতযান বা স্পীড রাইডার ,দ্বিতীয় বিভাগের নাম থামুন যান বা স্টপ রাইডার আর তৃতীয় রাইডারের নাম স্লোযান স্লো রাইডার ।
প্রথমেই আলোচনা করব দ্রুতজান নিয়ে,এটা হলো আসলে একজন মানুষের ক্রিয়েটিভ টাইম জোন,এটা কারো জন্য হতে পারে খুব সকালবেলা,কারো জন্য লেটনাইট,এখানে আপনি খুব সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় থাকেন যেটাকে পিক ওয়ার্ক পারফরমেন্স বলা হয়,এর ব্যাপ্তিকাল ধরুন দুই ঘন্টা।এখানে অজুহাত বা ডিস্ট্রাক্সান শুন্য থাকবে,এখানে মোবাইল, টিভি কিছুই এলাউ করা যাবেনা। শুধুমাত্র দুইঘণ্টার জন্য পুরো মনোযোগ দিয়ে শুধুমাত্র একটা কাজ ই করতে হবে।যেকাজটা আপনার জীবনে খুবই অর্থপূর্ণ হতে পারে সেটা যেমন -পড়ালেখা,গান করা,প্রজেক্টে কাজ, রিসার্চ। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের জন্য আমরা একই সময়ে অনেকগুলো কাজ একসাথে করতে চাই এবং করি,কেমন সেটা একটু ব্যাখ্যা করি যেমন পড়তে পড়তে একটু গিটার বাজালাম, একটু গান করলাম, ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম সাথে হোয়াটস অ্যাপে গার্ল্ফ্রেন্ডকে একটু নক  করলাম,আবার ওদিকে ইউটিউবে একটা নতুন ভিডিও আসলো সেটাও দেখে নিলাম,মানে একসাথে দশবারটা কাজ একসাথে করা শুরু করে দিলাম।

ভাবুন একবার আপনার একহাতে একটা গ্লাস ধরতে বলা হল,তারপর আরেক হাতে আরেকটা গ্লাস,এরপর মাথায় একটা বোঝা নিতে বলা হলো তখন আপনার স্ট্রেস লেভেল কোথায় থাকবে? তারপর আবার নাকের উপর একটা প্লেট নিতে বলা হল,মুখে আবার একটা প্লেট কামড়ে ধরলেন তাহলে এবার স্ট্রেস লেভেলের  মাত্রাটা একবার ভাবুন? বুঝতে পারছেন আপনি এতোদিন কি করেছেন? মজার কথা হল আমরাও একসাথে দশবারটা জিনিস একসাথে মাথায় নিয়ে থাকি, ফলে স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে এবং আমাদের আচরণে তার একটা বড় প্রভাব পড়ে আর আচরণের পরিবর্তন হয়।এটার সলিউশান হল আপনি একিই সময়ে একটা কাজ করুন,দেখবেন কোথায় স্ট্রেস,কোন স্ট্রেস নেই,আর থাকলেও সেটা মিনিমাম যেটা আপনার ক্ষতি করবেনা।
আমরা মাল্টি টাক্সিং এর নামে অনেকগুলো কাজ একসাথে করার চেষ্টা করি,যেটা আসলে আমাদের মানব মস্তিষ্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, আর এতেই স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে।এটা মূলত একটা ভার্চুয়াল কন্সেপ্ট,যেটা শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। মানব মস্তিষ্কে মাল্টি টাস্কিং নামে কোন জিনিসই হয়না।এই স্পীড রাইডারে উঠার পর আপনাকে মাল্টি টাক্সিং বন্ধ করে দিতে হবে,একটা রুলস এখানে মেনে চলতে হবে আর তা হলো ওয়ান জব এট এ টাইম,শুধুমাত্র একটি কাজ ই করবেন।আর যদি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে তবে প্রথম কাজটি পুরোপুরিভাবে শেষ করার পর করবেন।এরপর প্রতিবার স্পীড রাইডারে চড়ার পরে আপনাকে চড়তে হবে এক ঘন্টার থামুন বা স্টপ রাইডারে।এখানে আপনি আপনার আপকামিং স্পীড রাইডারে  চড়ার জন্য  নিজেকে রেডি করবেন, রিফ্রেশ হবেন। আজকের দিনে আমাদের জীবনে ট্রেসের কোন অভাব নেই,অভাব হলো রিকভারির।এই স্টপ  রাইডারে উঠার পর আপনার ফোকাস থাকতে হবে আর ফোকাসটা থাকবে ঠিক স্পীড রাইডারের  বিপরীত, এখানে কোন ক্রিয়েটিভ কাজের ব্যাপারে ভাবা,বা রিসার্চ এগুলো একদম ই করা যাবেনা। এখানে যে রুলসটা মেনে চলবেন তা হল নো ওয়ার্ক, নো থিংকিং।এই যানে আপনি সময়টাকে সেল্ফিস ব্যবহার করবেন,অর্থাৎ এখানে নিজেকে কেবল রিফ্রেশ করবেন,এখানে শারিরীক এবং মানসিক দুইভাবেই রিফ্রেশ হবেন, রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য এখানে আপনি মেডিটেশন, ইয়োগা, হাল্কা শারিরীক ব্যায়াম করতে পারেন।অথবা কোন রিফ্রেশিং মিউজিক ও শুনতে পারেন,তবে রিফ্রেশিং মিউজিক মানে জাকানাকা জাকানাকা গানটা নিশ্চয় নাহ।যাই হোক আপনি যেন রিফ্রেশ ফিল করেন।

স্পীড রাইডার  আর স্টপ রাইডারের  মাঝখানে স্লোযান  বা স্লো রাইডার একটা ট্রান্সলিশনের কাজ করে।স্লোযান আমাদের সবার ডিফল্ট যান। এই স্লোযান এক একজন এক এক সময়ে উঠতে পারেন,যেমন আমার জন্য এটা দুপুরে লাঞ্চের পর আসে।এটাকে আমরা কমফোর্ট জোন ও বলতে পারি।এখানে আপনার  স্বাধীনতা আছে নিজের ইচ্ছেমত সবকাজ করার,এখানে আপনি চানতো টিভি দেখতে পারেন,ইউটিউবে ঘুরতে পারেন বা গেইমস খেলতে পারেন যেটা আপনার ইচ্ছে কিন্তু এই যানে থাকার সময়ে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ,সিদ্ধান্ত নেওয়া একেবারেই বর্জনীয়। আপনার এই রাইডারে চড়া ৬-৮ ঘন্টা অব্ধি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।ব্যাক্তিভেদে তারতম্য হতে পারে।

এখন আপনি আমার স্ট্রেস সলুউশান রাইডারে চড়ার কথা ভেবে চিন্তা করছেন আজকে থেকে এটা পারফেক্টলি  ব্যবহার করবেন,তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন, কেননা এটা একদিনে হওয়ার ব্যাপার না। স্পীড রাইডারে ফুল পারফরমেন্সে কাজ করার জন্য আগে আপনাকে কিছু দিনের জন্য প্রাক্টিস করে নিতে হবে,তারপর এটা  আপনার একটা অভ্যেসে পরিণত হবে। এই সময়ে আপনাকে একটা বিষয়ে সচেতন হতে হবে যাতে কখনই আপনি একটা রাইডারে চড়ার সময় আরেকটা রাইডারে লাফ না দেন,তাহলেই আপনার ট্রেসকে আপনি নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবেন,আর যদি রাইডার থেকে রাইডারে লাফাতে থাকেন তাহলে আপনার অবস্থা কি হবে সেটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়। এক্সিডেন্ট করে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা হবে,তাই সাবধান থাকবেন।
তবে যদি কোন ইমার্জেন্সী চলে আসে তাহলে আপনি বলবেন মনে মনে আমি এখন স্টপ  রাইডারে না চড়ে স্পীড রাইডারে চড়তে চাই।তিনবার বলুন তারপর স্পীড রাইডারে  মানে সিরিয়াস ওয়ার্কিং এ যোগ দিন।যাতে তিনটি যান বা রাইডারের তফাৎটা বুঝা যায়। মনোবিজ্ঞানে স্ট্রেস এমন একটা রোগ যা আপনাকে একেবারে শেষ করে দিবে ক্যান্সারের মত আস্তে আস্তে।মানুষের জীবনে সাকসেস বাড়ার সাথেসাথে স্ট্রেস ও বাড়তে থাকে।তাই আমেরিকার বেশিরভাগ লোক এই স্ট্রেসে বেশি ভুগে।তাই এটাকে ম্যানেজ,কন্ট্রোল করার জন্য যদি কোন স্টেপ না নেন তবে এটা আপনার সুখশান্তি তো কেড়ে নেবেই সাথে আপনার জীবন ও কেড়ে নিবে।
সবশেষে আমার লেখা থেকে আপনি উপকৃত হোন তবেই আমার লেখার স্বার্থকতা,আরো মানসিক সমস্যা ও তার স্মার্ট সলিউশান নিয়ে সামনে আরো আলোচনা হবে।
সুস্থ সুন্দর থাকুন,জীবনে সুখী ও সফল হোন।

শুভকামনায়
সুজন নীল
স্পেশ্যালিস্ট
জেন্ডার জাস্টিস এন্ড ডাইভারসিটি /ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ইউনিট
অর্গানাজেশন ডেভেলপমেন্ট , ব্র‍্যাক

সাইকোলজিস্ট ও প্রধান প্রশিক্ষক
সুজন নীল আর্ট স্কুল এন্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন

মা দিবসে উপলব্ধি

মা দিবসে উপলব্ধি-সুজন নীল আপনি যখন একা জীবন যাপন করবেন তখন অনুধাবন করবেন ঘরের কাজগুলো ফেলনা নয় এই রান্নাবান্না, থালাবাসন মাজা,কাপড়চোপড় ধ...